নিউজ ডেস্ক: পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর বালু মহাল দখল ও বালু ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে ফের থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। নদীপথে আসা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী কফি হাউসে অতর্কিত গুলিবর্ষণ করলে এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া বড়পাড়ায় পদ্মা নদীসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসী হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মধ্যরাত পর্যন্ত ঈশ্বরদী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।
পুলিশ, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সাঁড়া মাঝদিয়া এলাকায় পদ্মাতীরের একটি কফি হাউসে কয়েকজন কফি পান করছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনটি স্পিডবোটে করে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী নদীতীরে নেমে আচমকা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ ও হামলা শুরু করে। মুহুর্মুহু গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে কফি হাউসে থাকা মানুষজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন এবং মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
হামলায় গুরুতর আহতরা হলেন সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া খাঁ পাড়া গ্রামের মো. হামিদুল প্রামাণিকের ছেলে ও চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী অয়ন প্রামাণিক (১৭), মাঝদিয়া স্কুলপাড়া এলাকার মো. সুরত আলীর ছেলে সানোয়ার হোসেন (২৬) এবং পৌর শহরের পূর্ব টেংরি আমবাগান এলাকার মো. আমানউল্লাহ খাঁর ছেলে আকাশ খাঁ (২৬)। বাকি দুজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
আহত এসএসসি পরীক্ষার্থী অয়ন প্রামাণিকের বড় ভাই মো. অন্তর জানান, তাদের এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছে। সাধারণ মানুষ পদ্মাতীরে অবসরে কফি খেতে গেলে তাদের ওপর এই সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা কফি হাউসে ঢুকে অয়নকে মাথায় কোপ দেয় এবং এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ আকাশ খাঁ বলেন, ‘আমরা তো কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই, সাধারণ মানুষ হিসেবে কফি খেতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ গোলাগুলির শব্দে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করলে আমার মাথায় গুলি লাগে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাবেরি সাহা জানান, আহতদের মধ্যে একজনের মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটলেও গুলিটি ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। এছাড়া অন্যদের শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছিল। তাদের ক্ষতস্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তারা আশঙ্কামুক্ত বলে নিশ্চিত করেছেন এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
এক সপ্তাহ ধরে ঈশ্বরদীর সাঁড়া এলাকায় পদ্মা নদীর বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি চলছিল। পুলিশ ও প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণা, এরই ধারাবাহিকতায় এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান আসাদ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুজনকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পদ্মার বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধের সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



