নীলফামারী প্রতিনিধি : আগের চাঁদাবাজরা গিয়েছে এখন সর্বস্তরের জনগণ বলে হাত বদল হয়েছে। মানুষ বলে রেট বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে চাঁদাবাজ, দখলকার সেখানে যুদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জমায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে জেলার ডোমার উপজেলা জামায়াত আয়োজিত এক পথসভায় এসব মন্তব্য করেন।
তিনি আরো বলেন, এতগুলো মানুষ জীবন দিল, পঙ্গু হল, তোমারিতো সহকর্মী। তারা এখন দুনিয়ায় নেই। তাদের রক্ত ও তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে সম্মান জানাতে চাদাবজদের প্রতি তিনি আবেদন করেন। তাদের জীবন ও রক্তের কোন মুল্য কি তাদের কাছে নেই বলেও তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, চাদাবাজি দখলবাজিকে শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি করা বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ দুশাসন মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
দেশের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পরিকল্পিত ভাবে দেশের আইন শৃংখলা পরিস্থিতিন অবনতি ঘটানো হচ্ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশে কোন নির্বাচন সম্ভব নয়। এ সময় নির্বাচন হলে তা ইলেকশন জেনোসাইট হবে বলে তিনি দাবি করেন। চরম বিশৃংখলা হবে, রক্তের বন্যায় ভাসবে বাংলাদেশ। আমরা এটা চাই না। আমরা চাই দেশের সকল ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে আইন শৃংখলা ফিরিয়ে এনে, জনগনকে স্বস্তির সাথে তার ভোট প্রয়োগের সুযোগ তৈরী করে দিতে হবে। শেখ হাসিনার পৌনে ২ কোটি ভুয়া ভোটার বাতিল, মৃতদের ভোটার তালিকা হতে বাদ দেয়া এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবী জানিয়ে স্থানীয় নির্বাচন আগে দেবার দাবী জানান তিনি। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রশাসকদের জনগন তাদের প্রতিনিধি মনে করে না, তারা তাদের ঘুষের রেট বাড়িয়ে দিয়ে বেশী হয়রানি করছেন। বিগত আওয়ামীলীগের সময় তারা শালা, সমন্ধি আত্বীয়-স্বজন মিলে স্থানীয় নির্বাচনের নামে সবকিছু দখল করেছেন। জামায়াতের রাজনীতি জন-দুর্ভোগ বাড়াতে নয় কমানোর জন্য। তিনি নির্বাচনে পিআর সিস্টেমের দাবী জানান।
সংখ্যালঘুদের বিষয়ে তিনি বলেন, সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু বলে কিছু নাই, আমরা এসব মানি না। সবাই এ দেশের মর্যাদাবান নাগরিক। এগুলো দেশের পক্ষ-বিপক্ষ সৃষ্টি করে, আমাদের ঐক্যর বাংলাদেশ প্রয়োজন। তাহলে কেউ প্রভু হিসাবে সামনে আসবে না। সবার সমান অধিকার, আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত, দুশাসন মুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ চাই। ৫৪ বছরে এভাবে ফ্যাসিবাদ দেশে পাকা পোক্ত হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন এবং ৫৪ বছরের কোন দলের শাসন থেকে জনগন মুক্তি পায় নাই।
নারী সমাজের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসলাম ক্ষমতায় গেলে, নারীরা বেশী সুবিধা ভোগ করবে বলেও তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে নারীরা মর্যাদা ও নিরাপত্তা পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জামায়াত সম্পর্কে সুবিধাভোগীরা ভয় দেখিয়ে আসছে। যাকে তিনি আন্তর্জাতিক নিকৃষ্ট উদাহরন বলে উল্লেখ করেন।
বেকারদের উদ্দ্যেশে তিনি বলেন, দেশে সুশিক্ষার পরিবর্তে কু-শিক্ষা দেয়া হয়। এ শিক্ষা মানুষ বানায় না, দক্ষ নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলে না। তাই সার্টিফিকেটের বস্তা নিয়েও চাকরী মেলে না। আমরা ক্ষমতায় গেলে নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি পেশাগত দক্ষ এমন শিক্ষা দেয়া হবে, যেদিন শিক্ষার পাট শেষ হবে সেদিন যোগ্যতানুযায়ী চাকরীর অফার লেটার তাদের দেয়া হবে। আমরার কোন বেকার থাকতে দেব না।
তিনি কাউকে ভয় দেখাতে ও চোখ রাঙ্গানিকে ভয় পায় না বলেও হুশিয়ারি উচ্চারন করেন। জামায়াতে ইসলামী দেশের সবচেয়ে মজলুম দল উল্লেখ করে তিনি একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সবাইকে তাদের পাশে থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান।
জেলার ডোমার উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা আমীর খন্দকার আহমাদুল হক মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, জেলা আমীর অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।



