নিজস্ব প্রতিবেদক : আনন্দ-উল্লাস ও উৎসবমুখর পরিবেশে সারাদেশ থেকে আগত ভোটারদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাজধানীর কাওরানবাজারে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কার্যালয়ে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। এবার মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১,৬০৬ জন, আর দুটি প্যানেলে ৪১ জন করে মোট ৮২ জন প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভোর থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ সারি ও উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে প্রার্থীরা বিজয়ের আশায় এবং ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার উচ্ছ্বাসে ভোট দেন। প্রার্থীরা ইশতেহার বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ করেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনাররা।
কায়সার–আবরার–মাজহারুল পরিষদের প্রার্থী তালিকা
এই প্যানেলে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোঃ কায়সার হোসেন; কার্যকরী সভাপতি একেএম সাইয়েদুল আবরার; মহাসচিব মোঃ মাজহারুল ইসলাম। সহ-সভাপতি—মোঃ মিজানুর রহমান খান (১), মোঃ সোহরাব হোসেন (২); বিভাগীয় সহ-সভাপতি—ঢাকা: মোঃ ফারুক হোসেন খান, ময়মনসিংহ: মোঃ নুরুল হক, চট্টগ্রাম: মোঃ শেখ ফরিদ, সিলেট: মোঃ ফারুক হোসেন, রাজশাহী: মোঃ হেলাল উদ্দিন, রংপুর: মোঃ শাহজাহান আলী, খুলনা: ভি এম কাইসুজ্জামান এবং বরিশাল: মোঃ জসীম উদ্দিন।
যুগ্ম মহাসচিব—১ মোঃ সোহেল রশিদ; ২ মোঃ রিয়াজ উদ্দিন; বিভাগীয় যুগ্ম মহাসচিব—ঢাকা: মোঃ আমিরুজ্জামান, ময়মনসিংহ: মোঃ মাহবুব আলম, চট্টগ্রাম: মোঃ মহিউদ্দিন ভূঁইয়া, সিলেট: কুকিয়া সুলতানা, রাজশাহী: রাজু আহমেদ, রংপুর: সুদর্শন বিশ্বাস, খুলনা: মোঃ মামুন অর রশিদ এবং বরিশাল: মোঃ উজ্জ্বল তালুকদার।
অন্যান্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী—সাংগঠনিক সম্পাদক–১ কাজী মাহবুব হাছান, ২ আব্দুস সাত্তার খান মানিক; অর্থ সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন; দপ্তর সম্পাদক দয়াল কুমার গাইন; প্রচার সম্পাদক মোঃ সরফরাজ উদ্দিন; শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা; মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শারমিনা আক্তার; যোগাযোগ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সাত্তার; তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোঃ রহিদুল ইসলাম; সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোঃ অনিক রহমান; ধর্ম ও পরিবেশ সম্পাদক দেওয়ান মোঃ শাহ আলম। নির্বাহী সদস্য—শরমিন রহমান, মেহেদী হাসান, রাজ ইসলাম, রঞ্জু দাস, মোঃ ওমর ফারুক, ইলিয়াস হোসেন ও মোঃ মজিবর রহমান।
সাইদুর (কাজল)–ইমরুল–নেছার পরিষদের প্রার্থী তালিকা
সভাপতি হিসেবে লড়ছেন মোঃ সাইদুর রহমান মজুমদার (কাজল); কার্যকরী সভাপতি মোঃ ইমরুল ইসলাম; মহাসচিব মোঃ নেছার উদ্দিন। সহ-সভাপতি—মোঃ শাহজাহান আলী, মোঃ ফিরোজ আল মামুন; বিভাগীয় সহ-সভাপতি—ঢাকা: কাজী মোঃ বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম: মোঃ গিয়াস উদ্দিন খান, রাজশাহী: মোঃ আখিউল আলম, রংপুর: মোঃ আল আমীন, খুলনা: মোঃ বাবুল হোসেন, বরিশাল: মোঃ হেমায়েত হোসেন, সিলেট: মোঃ শফিকুর রহমান এবং ময়মনসিংহ: মোঃ আব্দুর রব।
যুগ্ম মহাসচিব—১ মোঃ মজনু মিয়া; ২ মোঃ মনির হোসেন; বিভাগীয় যুগ্ম মহাসচিব—ঢাকা: হারুন-অর-রশিদ, চট্টগ্রাম: ইমাম হোসাইন, রাজশাহী: মোঃ সিরাজুল ইসলাম, রংপুর: মোঃ হারুন অর রশিদ, খুলনা: মোঃ জিল্লুর রহমান, বরিশাল: মোঃ রফিকুল ইসলাম, সিলেট: মোঃ বশির উদ্দিন এবং ময়মনসিংহ: মোঃ রফিকুল ইসলাম।
অন্যান্য পদে প্রার্থী—সাংগঠনিক সম্পাদক–১ এমএ করিম খান, ২ মোঃ সেলিম হোসেন; অর্থ সম্পাদক মোঃ মতিউর রহমান; দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম; প্রচার সম্পাদক মোঃ মামুন হোসেন; শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ শাকির উদ্দিন; মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অমিতা শর্মা; যোগাযোগ সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলাম; তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জাহিদ আল মামুন; সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোঃ মুসা সেখ; ধর্ম ও পরিবেশ সম্পাদক সালেহ আহাম্মদ। নির্বাহী সদস্য—মোঃ মেজবাহ উদ্দিন, রেজিয়া বেগম, আমেনা বেগম, পারভীন আক্তার, মোঃ তোতা মিয়া, কবির আহমেদ ও লুটাস রেমা।
নির্বাচন চলাকালে একাধিক প্রার্থী জানান, অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তারা বলেন, “আমরা সবাই একে অপরের আপনজন। কোনো সমস্যা নেই। দীর্ঘ ১৪ বছর পর গণতান্ত্রিক ধারায় নির্বাচন হলো। আমরা নতুনভাবে দাঁড়িয়েছি। নির্বাচিত হলে কর্মচারীদের পদোন্নতি, নিয়োগ বিধি, ক্যান্টিন সমস্যা, ডে-কেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থা—ইশতেহারে যা যা বলা হয়েছে, সব বাস্তবায়নে কাজ করব ইনশাল্লাহ।”
তারা আরও বলেন, “ভোটাররা পাশে থাকলে আমরা উন্নয়নের যাত্রা এগিয়ে নিয়ে যাব। আর কেউ পরাজিত হলেও তিনি জয়ী প্যানেলের সঙ্গে কর্মচারীদের উন্নয়নে কাজ করে যাবেন।”
ভোটাররাও বলেন, “সব প্রার্থীই আমাদের আপনজন। সবাইকে তো জিতানো সম্ভব নয়, তবে যে-ই জয়ী হোক—সে যেন সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে। আমরা চাই, কল্যাণ সমিতির নেতারা সদস্যদের সুখে–দুঃখে পাশে থাকুক।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোঃ ফজলুল কাদের বলেন, “সব নিয়ম-কানুন মেনে প্রার্থীরা ভোট চাইছেন। তারা আন্তরিক। কোনো বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই। যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে আছেন।”
এ সময় নির্বাচন কমিশনার মোঃ বজলুর রশিদ, মোঃ হেলাল উদ্দিন, প্রিজাইডিং অফিসার মোঃ ছাইদুল ইসলামসহ আরও দুই নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।



