ঢাকা  শনিবার, ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
HomeUncategorizedফিফা আসিয়ান কাপ কঠিন প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া, তবু আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

ফিফা আসিয়ান কাপ কঠিন প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া, তবু আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক: ফিফা আসিয়ান কাপে কঠিন প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ।

ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগামীকাল শক্তিশালী মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। র‍্যাঙ্কিং, শক্তিমত্তা কিংবা সাম্প্রতিক ছন্দ—সবকিছুর বিচারে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের চেয়ে প্রতিপক্ষ অনেকটাই এগিয়ে। তবে থমাস ডুলির শিষ্যদেরও একদম হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। চেনা ছন্দে থাকলে যেকোনো পরাশক্তিকে আটকে দেওয়ার সামর্থ্য আছে বাংলাদেশের।

জাকার্তায় আগামীকাল বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে জামাল ভূঁইয়ারা। এই ম্যাচসহ টুর্নামেন্টের সব খেলা সরাসরি সম্প্রচার করবে দেশের একমাত্র ক্রীড়াভিত্তিক টিভি চ্যানেল টি স্পোর্টস।

কাগজে-কলমে দুই দলের ব্যবধানটা বেশ বড়। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়া ১৩৬ এবং বাংলাদেশ আছে ১৮১ নম্বরে; অর্থাৎ দুই দলের ব্যবধান ৪৫ ধাপের। তবে ফুটবলে র‍্যাঙ্কিং সবসময় মাঠের বাস্তবতা প্রতিফলিত করে না। আর এখানেই বাংলাদেশের আশার আলো দেখছেন সমর্থকেরা।

অবশ্য ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সমর্থকদের বাস্তববাদী হওয়ার বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলি। শক্তির বিচারে প্রতিপক্ষ অনেকটাই এগিয়ে—সেটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রত্যাশার পারদ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি এই টুর্নামেন্ট থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

অবশ্য ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সমর্থকদের বাস্তববাদী হওয়ার বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলি। শক্তির বিচারে প্রতিপক্ষ অনেকটাই এগিয়ে—সেটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রত্যাশার পারদ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি এই টুর্নামেন্ট থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

 

এই সফর থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে কাজে লাগানোর কথা স্পষ্টভাবেই ফুটে উঠেছে কোচের কণ্ঠে। থমাস ডুলি বলেন, ‘র‍্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়া আমাদের চেয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ধাপ এগিয়ে, যা বিশাল ব্যবধান। সিঙ্গাপুরও র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩০-৩৫ স্থান সামনে। আর ইন্দোনেশিয়ার কথা তো আগেই বললাম। তাই এই টুর্নামেন্টকে আমরা মূলত শেখার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছি। এখানে আমাদের ভুল হতে পারে, আশা করি ভুল কমই হবে। তবে সেই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়েই আমাদের আগামী দিনের ম্যাচ এবং বিশেষ করে “সাফ টুর্নামেন্ট”-এর প্রস্তুতি সারতে হবে—সেটাই আমাদের আসল লক্ষ্য।’

দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০২২ সালের এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে। সেবার ৪-১ গোলে জিতেছিল মালয়েশিয়া। তবে তার আগে ২০১২ সালে দুই দলের ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয় এবং ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়েছিল। অর্থাৎ, সাম্প্রতিক মুখোমুখি পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ যে একতরফাভাবে পিছিয়ে আছে, তা বলা যায় না।

বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার লক্ষ্য মাঠের লড়াইয়ে সেরাটা দিয়ে ইতিবাচক ফল আনা। তিনি বলেন, ‘দল হিসেবে আমরা প্রতিটি ম্যাচে সেরা লড়াইটা দিতে চাই। আর এখান থেকে যদি আমরা কিছু পয়েন্ট বা অন্তত দু-একটি জয় তুলে নিতে পারি, তবে সেটাই হবে আমাদের জন্য বড় এক সাফল্য।’

প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণভাগের গতি ও বৈচিত্র্য। দলে আছেন আরিফ আইমান, বার্গসন দা সিলভা, ফয়সাল হালিম, স্টুয়ার্ট উইলকিন, নোয়া লাইন ও ডিওন কুলসদের মতো ধারালো ফুটবলার।

সাম্প্রতিক আসিয়ান হুন্দাই কাপে মালয়েশিয়া গ্রুপ পর্বে মিয়ানমারকে ২-১, লাওসকে ৪-০ এবং ফিলিপাইনকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল। পরবর্তীতে ভিয়েতনামের কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ গোলে হেরে বিদায় নিলেও, তাদের আক্রমণভাগের সামর্থ্য নিয়ে কোনো প্রশ্নের অবকাশ নেই।

অন্যদিকে লাল-সবুজের সবচেয়ে বড় বাজি হতে যাচ্ছে মাঝমাঠ। হামজা চৌধুরী ও শমিত শোমের উপস্থিতিতে মিডফিল্ডে বলের দখল রাখা, হাই-প্রেসিং এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করার ক্ষমতা আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে হামজা যদি দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে বল বাড়াতে পারেন, তবে প্রতিপক্ষ রক্ষণে ঝড় তোলা সম্ভব।

মালয়েশিয়া কোচ বলেন, ‘যেকোনো টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচই কঠিন। তাই আমরা এই ম্যাচটিতেই শতভাগ মনোযোগ দিচ্ছি।’

কাগজে-কলমে কঠিন বাস্তবতা থাকলেও ফুটবলের অনিয়মিত রোমাঞ্চ তো থেকেই যায়। সঙ্গে রয়েছে লাল-সবুজদের লড়াই করার আত্মবিশ্বাস। সব মিলিয়ে শক্তিশালী মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে চমক দেখানোর স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামছে থমাস ডুলির বাংলাদেশ।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular