নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এসব কর্মসূচি দারিদ্র্য কমানোর পাশাপাশি নতুন করে মানুষকে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়া ঠেকাতে সহায়ক হতে পারে।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও নিত্যপণ্যের ব্যয় বৃদ্ধির চাপ বিশেষ করে নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব উদ্ধৃত করে তিনি জানান, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির প্রভাবে দেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে।
উপদেষ্টা ড.তিতুমীরের ভাষ্য, স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দারিদ্র্যের হার প্রায় ৫ শতাংশ কমতে পারে। তবে ওই প্রক্ষেপণ কোন গবেষণা সংস্থার, তা তিনি উল্লেখ করেননি।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু কঠোর মুদ্রানীতিকে যথেষ্ট মনে করছে না সরকার। রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, কর ফাঁকি ও জালিয়াতি বন্ধ এবং আর্থিক খাতে সংস্কারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিতুমীর জানান, গত অর্থবছরে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশ থাকলেও বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত তা ১২ থেকে ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোও সংস্কার কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে জানান ড.তিতুমীর। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে এলএনজি, জ্বালানি ও সারের আমদানি ব্যয় বাড়লেও কৃষকের উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।-
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি, দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন অর্থায়ন ও আর্থিক খাতের সংস্কার এবারের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।




