লন্ডন প্রতিনিধি : ফ্লাইট বন্ধ বা টিকিটিং সেবা স্থগিত রাখার খবরটি প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া জাগিয়েছে। অনলাইন বুকিং সিস্টেম বন্ধ ও রুটটি স্থগিত রাখার শঙ্কা জানিয়ে গত কয়েকদিনে নর্থ-ইংল্যান্ড ও ম্যানচেস্টারে ব্যাপক প্রতিরোধ ও স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়েছে।
ম্যানচেস্টারে বসবাসরত প্রবাসী নেতৃত্বগুলো মাঠে নেমে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সমাবেশ, স্মারকলিপি-জমা ও ডেপুটি হাইকমিশন ও বিমান কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি-নিবারণের দৃশ্য দেখা গেছে। পুনরায় রুট বন্ধ হলে প্রবাসীদের যাতায়াত ও ভ্রমণ-ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে—এমন আশঙ্কা থেকে তারা হতাশা জানাচ্ছেন।
প্রবাসী নেতারা সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, রুটটি ঠিক থাকবে না—এমন হলে স্থানীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বসবাসকারী বাঙালিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে; কোনো কিছুতে চাপনো হলে রেমিট্যান্সে হুমকি পর্যন্ত দেওয়ার কথাও উঠে এসেছে। এটা শুধু ট্রাভেল নেটওয়ার্ক নয়—সিলেটি কমিউনিটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন।
তবে বিমানের পক্ষ থেকে অপ্রীতিকর গুজব ও সিদ্ধান্ত-সংক্রান্ত বিবৃতি একাধিকবার এসেছে; কখনো কখনো কর্তৃপক্ষ রুট স্থগিতের সম্ভাবনা নিয়ে ক্লিয়ার বক্তব্য দিয়েছে বা রুট বাতিলের গুজব নাকচ করেছে—অর্থাৎ অফিসিয়ালি কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিভ্রান্তি বিরাজ করছে। প্রবাসীদের দাবি, বিমান কর্তৃপক্ষ ও দূতাবাস যৌথভাবে দ্রুততমভাবে অবস্থান স্পষ্ট করবেন এবং বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন।
প্রবাসী-সমাজ ও স্থানীয় নেতাদের দাবি তিন-ধাপে—
(১) সরাসরি সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট অবিলম্বে পুনর্বহাল করা,
(২) টিকিটিং সিস্টেম পুনরায় চালু করে নিশ্চিত বুকিং সুবিধা দেয়া এবং
(৩) যদি অর্থনৈতিক কারণে রুট কার্যকর না থাকে, তাহলে বিকল্প স্পেশাল ফ্লাইট/চার্টার অপশন বা সংযুক্ত রুটে অনুকূল ভাড়া ও সেবা নীতিতে সাহায্য করা।
এই দাবিতে স্মারকলিপি, অনলাইন পিটিশন ও সামাজিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
পর্যটক-প্রবাসী প্রতি নির্দেশনা :
অফিসিয়াল ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত টিকিট বিক্রি/রাস্তাসংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্তের জন্য বিমান কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট ও স্থানীয় কনস্যুলেট/ডেপুটি হাইকমিশন খেয়াল করুন।
আগাম ভ্রমণ পরিকল্পনা থাকলে বিকল্প রুট (ঢাকা বা লন্ডন-কানেকশন) ও অন্যান্য বাণিজ্যিক এয়ারলাইন্সের মূল্য/সেবা যাচাই করে নিন।
প্রবাসীরা স্থানীয় প্রতিনিধি ও দূতাবাসকে জানান দিয়ে শান্তিপূর্ণ গতিতে দাবি তুলুন। এই ইস্যু কেবল পরিবহন সংক্রান্ত নয়—এটি প্রবাসীদের জন্মভূমির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও অর্থনীতির প্রশ্ন। তাই দ্রুত পরিষ্কার নীতির ঘোষণাই এখন সমাধানের চাবিকাঠি।



