ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখেলাবাংলাওয়াশ: জিততে ভুলে গেছে পাকিস্তান

বাংলাওয়াশ: জিততে ভুলে গেছে পাকিস্তান

ক্রীড়া ডেস্ক: টেস্টে দুই ম্যাচ হেরে লাল-সবুজ দেশে বাংলাওয়াশ হয়েছে পাকিস্তান। দলের দুর্দশা আরও প্রকট হলো বাংলাদেশ সফরে। দলটি ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর থেকে বিদেশের মাটিতে জিততে ভুলে গেছে। তাদের ধারাবাহিক ব্যর্থতার দৃশ্য দেখা গেল বাংলার মাটিতেও, যাদের লজ্জায় ডুবিয়ে মাথা উঁচু ১৮ কোটির বাংলাদেশের। 

৪-০

বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের শেষ চারটি টেস্টই জিতেছে, যা এসেছে দুইটি সিরিজ জুড়ে। ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে দুই ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারানোর পর এবার ঘরের মাঠেও একই ফল পুনরাবৃত্তি করেছে তারা।

বাংলাদেশ এখন মাত্র দ্বিতীয় দল, যারা টানা দুই বা তার বেশি ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে পরপর হোয়াইটওয়াশ করেছে। এর আগে ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া টানা চার সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল। বাংলাদেশই আবার প্রথম দল, যাদের কাছে পাকিস্তান টানা দুইটি দুই-ম্যাচ বা তার বেশি টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলো। জিম্বাবুয়ে ছাড়া আর কোনো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ আগে টানা চার টেস্ট জেতেনি (২০১৩-২০১৪)।

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম তারা টানা চারটি ম্যাচ জিতল। এই সিরিজের আগে গত নভেম্বরে ঘরের মাঠে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্ট জিতেছিল তারা। ঘরের মাঠে টাইগাররা টানা পাঁচটি টেস্ট জিতেছে, যা তাদের সেরা ধারাবাহিকতা।

বিদেশের মাটিতে পাকিস্তানের টানা সাতটি টেস্ট হার, যা তাদের যৌথভাবে সবচেয়ে বাজে ধারা। এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যেও তারা টানা সাতটি অ্যাওয়ে টেস্ট হেরেছিল। পাকিস্তানই একমাত্র দল, যারা ২০২৪ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অ্যাওয়ে টেস্ট জিততে পারেনি। দলটি সর্বশেষ টেস্ট পেয়েছে ২০২৩ জুলাইয়ে, শ্রীলঙ্কার মাটিতে।

এই সিরিজের দুই ম্যাচেই টস জিতে আগে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান এবং দুই ম্যাচই হেরেছে। টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সিরিজে আগে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তান দুই ম্যাচই হারল। সব মিলিয়ে, দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে টস জিতে আগে বোলিং নিয়ে দুই ম্যাচ হারার ঘটনা এটি মাত্র ষষ্ঠবার।

এই সিরিজের আগে বাংলাদেশ মাত্র দুইবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে জিতেছিল: ২০১৩ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এবং ২০২৩ সালে মিরপুরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে।

১২

অধিনায়ক হিসেবে ১৬ ম্যাচে শান মাসুদের টেস্ট হার এখন ১২টি, যা পাকিস্তানের কোনো অধিনায়কের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তার ওপরে আছেন শুধু মিসবাহ উল হক। তার অধীনে ৫৬ ম্যাচে পাকিস্তান হেরেছিল ১৯টি।

সব মিলিয়ে, টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ১৬ ম্যাচে শানের চেয়ে বেশি হার আছে মাত্র দুইজনের- ব্রেন্ডন টেইলর ও সাকিব আল হাসানের, দুজনেরই ১৩টি করে। হাবিবুল বাশারেরও প্রথম ১৬ টেস্টে হার ছিল ১২টি। খালেদ মাহমুদ অধিনায়ক হিসেবে নিজের ১২টি টেস্টের সবগুলোতেই হেরেছিলেন, আর মোহাম্মদ আশরাফুল ১৩ ম্যাচে হেরেছিলেন ১২টিতে।

অধিনায়ক হিসেবে নজমুল হোসেন শান্তর টেস্ট জয় এখন ৮টি, যা তাকে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়ক বানিয়েছে। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন মুশফিকুর রহিমের ৭ জয়ের রেকর্ড। ঘরের মাঠে শান্তর অধীনে বাংলাদেশের জয় এখন ৬টি, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ; মুশফিকের ছিল ৫টি।

একটি টেস্টে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি করার ঘটনা লিটন দাসের ক্যারিয়ারে এখন তিনবার। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে তামিম ইকবাল ও শান্তরও এমন তিনটি করে উদাহরণ আছে। লিটনের তিনটিই এসেছে ছয় নম্বর বা তার নিচে ব্যাট করতে নেমে এবং উইকেটকিপার হিসেবে খেলতে নেমে।

ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ও ম্যাট প্রায়রেরও ছয় নম্বর বা তার নিচে ব্যাট করে এমন তিনটি উদাহরণ আছে। উইকেটকিপারদের মধ্যে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার পাঁচবার একটি টেস্টে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন, আর প্রায়র করেছেন তিনবার।

১৪

টেস্ট ক্রিকেটে মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরি এখন ১৪টি, যা বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন মুমিনুল হকের ১৩ সেঞ্চুরির রেকর্ড।

টেস্ট ক্রিকেটে পঞ্চম বা তার নিচের উইকেটে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমের শতরানের জুটি এখন ৭টি। তাদের চেয়ে বেশি আছে শুধু জো রুট ও বেন স্টোকসের, যাদের এমন জুটি ৮টি। আসাদ শফিক ও মিসবাহ উল হকেরও আছে ৭টি শতরানের জুটি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular