ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিবাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর কমিয়ে করারোপের দাবি

বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর কমিয়ে করারোপের দাবি

নিউজ ডেস্ক: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তরের সংখ্যা হ্রাস, সুনির্দিষ্ট কর-পদ্ধতি প্রবর্তন এবং সব ধরনের তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের দাবি জানানো হয়েছে। প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে কমবে তামাকের ব্যবহার ও অকালমৃত্যু এবং সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকজাত পণ্যে করারোপ ও মূল্যবৃদ্ধির দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিগারেটের চারটি স্তরের মধ্যে নিম্ন ও মধ্যম-এ দুটি স্তরকে একত্রিত করে নতুন তিন স্তরের সিগারেটের ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম যথাক্রমে ১০০ টাকা, ১৫০ টাকা ও ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং সব স্তরে ৬৭% সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ এবং একই সঙ্গে বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে চার টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়।

পাশাপাশি ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ, প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৪৮ টাকা, প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সব তামাকপণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, সিগারেট করকাঠামোয় প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়ন করা হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে। দীর্ঘমেয়াদে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০৮ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৩৫ তরুণ জনগোষ্ঠীর অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে। তামাক ব্যবহারের হার প্রায় ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস পাবে। এবং তামাক খাত থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব হবে, যা বর্তমান অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসুদউল হক বক্তব্য দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান, তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর শরিফুল ইসলাম, আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরামের কো-অর্ডিনেটর মারজানা মুনতাহা এবং ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আরিফুর রহমান টিপু।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular