নিউজ ডেস্ক : — সৌন্দর্যচর্চা ও নারী উদ্যোক্তা হিসেবে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বায়োস্কোপ স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে নিগার সুলতানা রুমাকে।
সম্প্রতি বায়োস্কোপ সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে মঙ্গলবার ১৪ অক্টোবর ২০২৫ অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন মোঃ মোশাররফ হোসেন (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তা)। প্রধান অতিথির দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ এবং উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাট্য জগতের বহুমুখী ব্যক্তিত্ব ও সমাজ উন্নয়নে সক্রিয় জননী দিলারা জামান। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন তানজিলা আক্তার। অনুষ্ঠানটির শেষে একটি জমকালো সাংস্কৃতিক পর্বের মাধ্যমে এই আয়োজনে সমাপ্তি ঘটে।
বায়োস্কোপ সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছেন, নারীর স্বনির্ভরতা ও সৌন্দর্যচর্চা শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের জন্য এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, অনুন্নতগোষ্ঠী ও শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ অবদান রাখায় নিগার সুলতানা রুমাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, তার কর্মকাণ্ড অনেকে—বিশেষত তরুণী ও নারী উদ্যোক্তাদের—অনুপ্রাণিত করবে।
নিগার সুলতানা রুমা বর্তমানে রুবাবা বিউটি অ্যান্ড স্পা ট্রেনিং সেন্টার-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত। ছোটবেলা থেকে তার উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল এবং সেই লক্ষ্যেই তিনি দীর্ঘ বছর কাজ করে আসছেন। তিনি মূলত নারী কেন্দ্রিক প্রশিক্ষণ ও সৌন্দর্যচর্চা সেবার মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী করার ওপর গুরুত্ব দেন।
রুমা তার নিজস্ব আয় থেকে সামাজিক ও মানবিক কাজেও নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন—অঞ্চলভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছোট ছোট দায়িত্বগুলো পালন করা, অসহায় পরিবারে মেয়েদের পাত্রস্থ করা সহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে তিনি সক্রিয়।
নিগার সুলতানা রুমা, মেয়েদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ঢাকায় তার দুটি ট্রেনিং সেন্টার আছে এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এভাবে তিনি শিক্ষিত বেকারদের প্রশিক্ষিত করে স্বাবলম্বী করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন।
নিগার সুলতানা রুমার পারিবারিক জীবনেও ব্যবসা ও শিক্ষা-সংক্রান্ত মূল্যবোধ স্পষ্ট। তার স্বামী বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এ কর্মরত এবং তাদের দুই কন্যা সন্তান বুয়েটে অধ্যয়নরত—যা তাঁর পরিবারের শিক্ষাব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা-উদ্বুদ্ধ পরিমণ্ডলের পরিচায়ক।
অনুষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, আয়োজকরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে—নিগার সুলতানা রুমার কাজ শুধু একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয়; এটি একটি সামাজিক দায়িত্ববোধের উদাহরণ। স্থানীয় পর্যায়ে শুরু করা ছোট উদ্যোগগুলো কিভাবে বড় পরিসরে নারীদের ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখতে পারে—এই বাস্তব দৃষ্টান্ত তিনি উপস্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বহু শিক্ষিত বেকারকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মজীবনে ফিরিয়ে এনেছেন, যা দেশের নারী-উদ্যোগ ও ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলোর দীর্ঘমেয়াদি বিকাশে সহায়ক হবে।
সম্মাননা প্রদান শেষে বায়োস্কোপ সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়—নৃত্য, সঙ্গীত ও নাট্যাংশের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের ভাসমান পরিবেশকে সমুদ্ভূত করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় শিল্পীরা এবং সাংস্কৃতিক কর্মীরা, যারা রুমার অভিজ্ঞতা ও কাজের প্রশংসা করেন।
নিগার সুলতানা রুমার প্রস্তাবিত মডেলটি—ক্ষুদ্র উদ্যোগ দিয়ে স্থানীয় স্তরে নারীসমাজকে দক্ষ করে তোলা—দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিলিপি করা যেতে পারে। প্রশিক্ষণের মান বজায় রেখে ও বাজারের চাহিদাকে সমন্বয় করে এই ধরনের ট্রেনিং সেন্টারগুলো নারীদের জন্য স্থায়ী জীবিকা সরবরাহের সম্ভাবনা রাখে। তার সামাজিক কাজ ও রুটিনে অন্তর্ভুক্ত মানবিক উদ্যোগগুলো—যেমন এতিমখানা ও দুর্গত পরিবারের সহায়তা—একটি সফল নারী উদ্যোগীর পোর্টফোলিওকে বহুগুণ সমৃদ্ধ করেছে।
‘বায়োস্কোপ স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’-এ সম্মাননা পাওয়া নিগার সুলতানা রুমার কীর্তিই একদিকে নারীদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথকে প্রেরণা দেবে, অন্যদিকে ছোট উদ্যোগকে কিভাবে সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়—তার সফল উদাহরণ স্থাপন করবে।
বায়োস্কোপ সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগও নারীর ক্ষমতায়ন ও সৃজনশীলতা উৎসাহিতকরণে একটি ইতিবাচক বার্তা প্রেরণ করল।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ



