নিউজ ডেস্ক: রাজধানী ঢাকা, উন্নয়নের নামে খোঁড়াখুঁড়ির এক নগরী হয়ে উঠেছে। একদিকে রাস্তা কাটছে একটি সংস্থা, অন্যদিকে তা মেরামত করছে অন্য একটি সংস্থা।
এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়ে চলেছে। খিলগাঁওয়ের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীপাড়া মাটির মসজিদ সংলগ্ন সড়কের উন্নয়নকাজের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে সড়কটির উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হলেও, কাজ শুরু হওয়ার পর ওয়াসার স্যুয়ারেজ সংক্রান্ত কাজ আবারও শুরু হয়, ফলে সড়কটির চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
নিউ ইস্কাটনের দিলু রোডেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। সিটি করপোরেশন কাজ শুরু করার আগে ওয়াসাসহ অন্যান্য সেবা সংস্থাগুলোকে জানানো হলেও, কাজ শেষ হওয়ার পর ওয়াসার কাজ শুরু হয়।
রাজধানীর সড়ক খননের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থার কাজের ধরন আলাদা। ঢাকা ওয়াসা পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কাজ করে, ডিপিডিসি বিদ্যুৎ বিতরণ করে, এবং অন্যান্য সংস্থাগুলো টেলিযোগাযোগ ও গ্যাসের অবকাঠামো নির্মাণ করে।
২০১৯ সালে ‘ঢাকা মহানগরীর সড়ক খনন নীতিমালা’ প্রণয়ন করা হলেও, বাস্তব প্রয়োগে প্রশ্ন উঠছে। একাধিক সংস্থার কাজের মধ্যে সমন্বয় না থাকায়, সড়ক উন্নয়ন কাজের পর আবারও খনন করা হচ্ছে, যা নাগরিকদের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রাতের বেলায় উন্নয়নকাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এসব সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন কতটা হচ্ছে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রাজধানীর নাগরিক দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় নগর সেবা ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সমন্বয়কারী কর্তৃপক্ষ থাকা প্রয়োজন।
অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ভবিষ্যতে একই সড়কে বারবার খনন কমানোর জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল ইউটিলিটি ম্যাপ তৈরি করা প্রয়োজন।




