ক্রীড়া ডেস্ক: ২০২৬ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলের ট্রান্সফার বাজারে যেন টাকার বন্যা বইছে গেছে। সদ্য শেষ হওয়া মধ্য-বছরের ট্রান্সফার উইন্ডোতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের ঘিরে ৩.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ট্রান্সফার ফি খরচ হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ফিফার এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই তথ্য।
ফিফা জানিয়েছে, এবারের ট্রান্সফার উইন্ডোতে ৪৭টি জাতীয় দলের ২৬০ জনের বেশি বিশ্বকাপ খেলোয়াড় ক্লাব পরিবর্তন করেছেন। তাদের ট্রান্সফার ফি পুরুষদের ফুটবলে আন্তর্জাতিক দলবদলে ব্যয়ের রেকর্ড ৯.৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।
বিশ্বজুড়ে এবার ১২ হাজার ৫০০টির বেশি আন্তর্জাতিক ট্রান্সফার নিবন্ধিত হয়েছে। মধ্য-বছরের কোনো ট্রান্সফার উইন্ডোতে এটাই সবচেয়ে বেশি ট্রান্সফারের নতুন রেকর্ড বলে জানিয়েছে ফিফা।
জুলাইয়ে স্পেন বিশ্বকাপের শিরোপা জেতার পরই ট্রান্সফার বাজারে বড় অঙ্কের অর্থের প্রবাহ দেখা যায়। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স যে বিশ্বব্যাপী দলবদলের বাজারে রেকর্ড ব্যয় বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে, ফিফার গবেষণায় সেটিই উঠে এসেছে।
বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো বেশ কয়েকজন তারকাও এই উইন্ডোতে বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ক্লাব বদল করেছেন। স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি ম্যানচেস্টার সিটি থেকে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে ফ্রান্সের উইঙ্গার ব্র্যাডলি বার্কোলা প্যারিস সেন্ট জার্মেইন ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন লিভারপুলে।
নারী ফুটবলেও নতুন রেকর্ড
শুধু পুরুষদের ফুটবল নয়, আন্তর্জাতিক দলবদলে নারী ফুটবলও গড়েছে নতুন রেকর্ড। ২০২৫ সালের তুলনায় নারী ফুটবলে আন্তর্জাতিক ট্রান্সফার ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২৮.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ফিফা জানিয়েছে, নারী পেশাদার ফুটবলে মোট ১ হাজার ৪০৬টি আন্তর্জাতিক ট্রান্সফার নিবন্ধিত হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা এবং আগের রেকর্ডের তুলনায় ১৯.২ শতাংশ বেশি।
ব্যয়ের শীর্ষে ইংলিশ ক্লাব
পুরুষ ও নারী- দুই বিভাগেই আন্তর্জাতিক ট্রান্সফার বাজারে সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করেছে ইংলিশ ক্লাবগুলো। পুরুষদের ফুটবলে ইংলিশ ক্লাবগুলোর ট্রান্সফার ফি বাবদ ব্যয় হয়েছে ৩.০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। নারী ফুটবলেও তারা ব্যয়ের তালিকায় শীর্ষে, যেখানে তাদের খরচ হয়েছে ৮.০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ফিফার পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স শুধু মাঠের ফলাফলেই প্রভাব ফেলে না, টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ট্রান্সফার বাজারেও তার বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। ২০২৬ বিশ্বকাপের পরের দলবদলের বাজারে রেকর্ড ব্যয় তারই বড় উদাহরণ।




