ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশমৎস্য খাতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটেছে, এবার রপ্তানি বাড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী

মৎস্য খাতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটেছে, এবার রপ্তানি বাড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী

নাজমুল হোসেন, বিশেষ সংবাদদাতা : দেশের মৎস্য খাত বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সক্ষমতা অর্জন করেছে। এখন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজন ঢাকার বাইরে কিশোরগঞ্জে করার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মৎস্য উৎপাদনে হাওরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের মিঠাপানির মাছের বড় একটি অংশ আসে হাওরাঞ্চল থেকে। তাই প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্যচাষি, জেলে ও মৎস্য খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষের কাছে কর্মসূচির বার্তা পৌঁছে দিতে এবার ঢাকার বাইরে এ আয়োজন করা হয়েছে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে নদী খনন, খাল সংস্কারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও মৎস্য খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘এবার আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই বড় আয়োজন করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ও নির্দেশনায় ঢাকার বাইরে এই কর্মসূচি আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির কারণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত ও ব্যতিক্রমী হয়ে উঠেছে।’

জাতীয় মৎস্য পক্ষের আয়োজন সফল করতে মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবার দায়িত্ব আলাদা হলেও সম্মিলিতভাবে কাজ করলেই বড় শক্তি তৈরি হয়। এবারের আয়োজনও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফল হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। কোনো ধরনের দায়িত্বে অবহেলা বা কাজে ফাঁকি দেওয়া যাবে না। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজের যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা ও দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারি দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একা কারও পক্ষে বড় কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। দক্ষ ও আন্তরিক একটি দল থাকলে যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। তাই কর্মকর্তাদের জনগণের কল্যাণে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

মৎস্য খাতের উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে এ খাতের উন্নয়নে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রান্তিক অর্থনীতিতে মৎস্য অধিদপ্তর আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, মৎস্যচাষি ও সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা নিতে এসে যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। যার যে দায়িত্ব, তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। জনগণের সেবা প্রদানে কোনো ধরনের কার্পণ্য করা যাবে না।

তিনি বলেন, সরকারের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজন ঢাকার বাইরে সর্বশেষ ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর এবার কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে এ আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের মৎস্যচাষি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ায় এবারের আয়োজন মৎস্য খাতের সঙ্গে সম্পৃক্তদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মৎস্যচাষি, জেলে ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular