সেলিনা খন্দকার
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বামপন্থীদের উত্থান একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। যখন দক্ষিণপন্থীরা বিভিন্ন দেশে সরকার গঠন করছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রে বামপন্থীরা নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। নিউইয়র্কের জোহরান মামদানি নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রগতিশীলদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে, এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে কিছু জটিলতা।
প্রগতিশীল প্রার্থীদের বিজয় মূলত শহুরে ও শিক্ষিত ভোটারদের সমর্থনে এসেছে, কিন্তু নিম্ন আয়ের হিস্পানিক ও আফ্রিকান-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা কম। মিশিগানের আবদুল এল-সাইয়েদ ও উইসকনসিনের ফ্রান্সেসকা হং-এর নির্বাচনী ফলাফল এই বাস্তবতার প্রমাণ। এল-সাইয়েদকে হারাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে ইসরায়েলপন্থী লবি, যা আগামী নির্বাচনে আরও বাড়বে।
ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরে প্রগতিশীলদের উত্থান পুরোনো নেতৃত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, যা রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বদলে নিজেদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে।
এদিকে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। হার্ভার্ডের জরিপে দেখা গেছে, ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণদের মধ্যে ৪৫ শতাংশ দৈনন্দিন খরচ জোগাতে অক্ষম। এই পরিস্থিতিতে, বার্নি স্যান্ডার্সের মতো নেতারা তরুণদের মধ্যে আশার আলো দেখাচ্ছেন।
মামদানি তাঁর মেয়রত্বের প্রথম ছয় মাসে নাগরিক পরিষেবার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি নিজেকে সোশ্যালিস্ট হিসেবে পরিচয় দিতে দ্বিধা করেন না এবং তাঁর কাজের মাধ্যমে প্রগতিশীল রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা অর্জন করছেন।
এখন প্রশ্ন হলো, প্রগতিশীলরা কি সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে? তাঁদের কাজের সাফল্যই হবে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী জবাব।
লেখক: সাংবাদিক, কবি




