আলামীন, রংপুর প্রতিনিধি : রংপুর নগরের রেলস্টেশনসংলগ্ন বাবুপাড়া লিচুবাগান এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। রেললাইনের সিগন্যাল বাতির খুব কাছেই সিমেন্টের পিলার বসিয়ে কংক্রিটের স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের জায়গায় অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের নির্মাণকাজ কীভাবে চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুর রেলওয়ে স্টেশনের রেললাইনের পাশে সিগন্যাল বাতির কাছাকাছি এলাকায় নির্মাণকাজ চলছে। সেখানে সিমেন্টের কয়েকটি পিলার স্থাপন করা হয়েছে। পিলারের ওপর কংক্রিটের স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। রেললাইন, সিগন্যাল বাতি ও অন্যান্য অবকাঠামোর এত কাছে স্থাপনা নির্মাণ করায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেলওয়ের জায়গা দীর্ঘদিন নজরদারির বাইরে থাকায় বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে স্থাপনা গড়ে উঠছে। বাবুপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন স্থাপনাটিও রেলওয়ের জায়গার মধ্যে পড়েছে কি না, তা দ্রুত যাচাই করা প্রয়োজন। রেলওয়ের জমি হলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাঁদের।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, রেললাইনের সিগন্যাল বাতির একেবারে পাশে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে রেললাইনের রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা সিগন্যাল ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত দেখা উচিত।
রেলওয়ের জমি ব্যবস্থাপনা ও অবৈধ দখল উচ্ছেদের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ভূ-সম্পত্তি বিভাগের। রেলওয়ের জমিতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে বৈধ ইজারা, অনুমোদন বা রেলওয়ের লিখিত অনুমতি রয়েছে কি না, সেটি যাচাই করার সুযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
রেলওয়ের জায়গায় অনুমোদন ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে কি না, তা নথিপত্র ও সরেজমিন পরিমাপের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে নির্মাণাধীন স্থাপনাটি রেললাইনের সিগন্যাল ব্যবস্থার নিরাপত্তায় কোনো প্রভাব ফেলছে কি না, সেটিও কারিগরিভাবে পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রেলওয়ের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে সেখানে আরও দখলদার তৈরি হতে পারে। এতে রেলওয়ের জমি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি রেল চলাচলের নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তাঁরা বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তাই নির্মাণাধীন স্থাপনাটি রেলওয়ের জায়গায় পড়েছে কি না, তা দ্রুত পরিমাপ করে দেখা দরকার। রেলওয়ের জমি হয়ে থাকলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।




