জালাল উদ্দিন মন্ডল নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সময়টা ছিল ১৯৯৬ সালের ১লা জুন। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের সৈয়দগাঁও গ্রামে তখন নির্বাচনী আমেজ। প্রিয় নেত্রী সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার জনসভায় যোগ দিতে ব্যকুল হয়ে ছিলেন হাজারো নেতাকর্মী। সেই মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন নান্দাইলের সিংরইল ইউনিয়নের উদং মধুপুর গ্রামের একনিষ্ঠ কর্মী মোঃ জসিম উদ্দিন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই দিনটি আনন্দ মিছিলে নয়, রূপ নিয়েছিল এক বিভীষিকাময় শোকগাথায়।
কিন্তু ১১ হাজার ভোল্টের পল্লী বিদ্যুতের তারে বিদ্যুতায়িত হয়ে জসিম উদ্দিনসহ ২৪ জন তাজা প্রাণ হারান এবং ৩৪ জন আহত হন। দীর্ঘ ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দুঃসহ স্মৃতি আজও বয়ে বেড়াচ্ছে নিহত জসিম উদ্দিনের পরিবার। গত তিন দশকে দল ক্ষমতায় এলেও ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি এই শহিদ পরিবাগুলোর। পাননি কোনো রাষ্ট্রীয় সহায়তা বা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে শহীদ জসিম উদ্দিনের বৃদ্ধা স্ত্রী ঝরনা আক্তারের এখন একটাই আকুতি—একবার সরাসরি দেখা করতে চান রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ১লা জুনের সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিজে নান্দাইলে উপস্থিত হয়ে ২৪ জন শহিদ ও আহত ৩৪ জনের স্মরণে একটি স্মৃতিফলক উন্মোচন করেছিলেন। সেই ফলকের ৭ নম্বর ক্রমিকে জসিম উদ্দিনের নাম খোদাই করা আছে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হলো, স্মৃতিফলকে নাম থাকলেও গত ২৯ বছরে এই পরিবারগুলোর তেমন খোঁজ-খবর নেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি এই দাবি জানিয়ে শহীদ জসিম উদ্দিনের পরিবার বিএনপির চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি লিখিত আবেদন পেশ করেছেন। আবেদনে তিনি পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তার পাশাপাশি মায়ের সাথে নেতার সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়ার আকুল প্রার্থনা জানিয়েছেন।
নান্দাইলের স্থানীয় বাসিন্দারা আজও সেই ১লা জুনকে স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এলাকার মানুষ মনে করেন, যে ২৪ জন নেতাকর্মী দলের জন্য জীবন দিয়েছেন আর আহত ৩৪ জন পরিবারের পাশে দাঁড়ানো শুধু দলের নয়, রাষ্ট্রেরও নৈতিক দায়িত্ব। বিএনপির রাজনীতির ইতিহাসে নান্দাইলের এই ২৪ জনের আত্মত্যাগ এক অনন্য ও নির্মম সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
জসিম উদ্দিনের পরিবারের মতো শোকাতুর মানুষেরা বিশ্বাস করেন, জননেতা তারেক রহমান এই মানবিক আবেদনটি বিবেচনা করবেন এবং দীর্ঘ ২৯ বছরের অবজ্ঞার অবসান ঘটিয়ে এই পরিবারকে শোকের ছায়া থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনবেন।
শহিদ জসিম উদ্দিনের পুত্র বাবুল মিয়া বলেন, “আমার পিতা দলের আদর্শের প্রতি ভালোবাসা থেকেই সেই মিছিলে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। দেশনেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া নিজে এসে শ্রদ্ধা জানিয়ে গিয়েছিলেন, সেটা আমাদের কাছে বড় পাওয়া। কিন্তু গত ২৯ বছরে আমাদের পরিবার কোনো সহায়তা বা স্বীকৃতি পায়নি। আমার মা এখন বার্ধক্যে উপনীত, অনেক অসুস্থ। তাঁর জীবনের শেষ ইচ্ছা—তিনি জনাব তারেক রহমানের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করে স্বামীর ত্যাগের কথাটি নিজ মুখে জানাতে চান।”



