আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
সোমবার (২২ জুন) পুত্রজায়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশা নিরসনে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করবে, আর মিয়ানমারকেও আসিয়ান কাঠামোর মাধ্যমে আলোচনায় যুক্ত করার চেষ্টা চলবে।
আনোয়ার ইব্রাহিমের ভাষ্য, “আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে এবং এখানেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সমস্যা নিরসনে কাজ করব।”
তিনি আরও জানান, আংশিক সমাধানের জন্য আসিয়ান ব্যবস্থার মাধ্যমে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
বাংলাদেশে প্রায় এক দশক ধরে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা এখনো মিয়ানমারে ফিরতে পারেনি। জাতিসংঘে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে বলছে, সংকটের উৎস মিয়ানমারেই, তাই সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে।
বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী সর্বশেষ জাতিসংঘ মঞ্চে দ্রুত প্রত্যাবাসনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
পুত্রজায়ার ওই আলোচনায় আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের কথাও স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিককার দেশগুলোর একটি এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানোও প্রথম দেশগুলোর মধ্যে ছিল মালয়েশিয়া।
দুই নেতা ফিলিস্তিন ও গাজা পরিস্থিতি নিয়েও একমত হন।
আনোয়ার বলেন, গাজায় সংঘটিত নৃশংসতার নিন্দা এবং উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইরানে স্থায়ী শান্তির প্রতি সমর্থনে দুই দেশ একসঙ্গে আছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের আদর্শে অটল থেকে দেশের অগ্রগতির জন্য কাজ করেছেন তারেক রহমান।
সামগ্রিকভাবে, কুয়ালালামপুরে এই বৈঠক রোহিঙ্গা সংকট, শ্রমবাজার, বিনিয়োগ এবং কূটনৈতিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ঢাকা–কুয়ালালামপুর সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
এই সফরকালে দুই দেশ বিনিয়োগ, সংস্কৃতি ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতায়ও অগ্রসর হচ্ছে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




