ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশকুমিল্লালাকসামে গাছে গাছে নান্দনিক সাজে ফুটেছে হোনালু ফুল

লাকসামে গাছে গাছে নান্দনিক সাজে ফুটেছে হোনালু ফুল

মশিউর রহমান সেলিম, লাকসাম,কুমিল্লা : কুমিল্লার সবকটি উপজেলা জুড়ে গাছে গাছে নান্দনিক সাজে ডালে ডালে ফুটেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবহনকারী হোনালু ফুল। এ অঞ্চলে হোনালু গাছ ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে পা বাড়ালেও চলমান বসন্তের শুরুতেই কিছু কিছু বাড়ি-বাড়ির আঙ্গিনায় কিংবা সড়কের পাশে ২/৪টি গাছে থোকা থোকা ফুলে ফুলে সেজে জানান দিচ্ছে গ্রামবাংলার নানান ছবি।

স্থানীয় একাধিক সত্রে জানায়, আবহাওয়া-জলবায়ু পরিবর্তনে এ অঞ্চলে প্রাকৃতিক কোন দূর্যোগ না হলে হোনালু গাছ ও ফুল যতটুকু আছে ততটুকু নিয়েই খুশি গাছের মালিকরা। কারন হোনালু গাছ ও ফুল মানুষের অনেক উপকারে আসে। হোনালু গাছের কাঠ দিয়ে নানাগ ফার্নিচার তৈরী এবং ফুল শরীরের নানাগ রোগে ব্যবহার কিংবা তার চাষনী-পায়েসসহ সু-স্বাধু নানান খাবার তৈরি করে থাকেন। কিন্তু প্রযুক্তির যুগে ২/৪ বাড়ি ঘুরেও পাওয়া যায় না এ উপকারী গাছটি। পরিবেশ ও মানব কল্যানে গাছটি সংরক্ষনে সরকারি কিংবা বে-সরকারি ভাবে কোন উদ্যোগ কেহই গ্রহণ করেনি।

সূত্রগুলো আরও জানায়, জেলা দক্ষিনাঞ্চলের উপজেলাগুলোর সবকটি গ্রামে এবং আশে পাশের গ্রামে গ্রামে বসন্তের শেষ সময় থেকে নববর্ষের আগমন ঘিরে গাছে গাছে প্রচুর পরিমান হোনালু গাছের ডাটায় ডাটায় ফুল ফুটতে শুরু করে পুরো ফাল্গুন মাস জুড়ে তার নান্দনিক বাহারি সাজে সেজে থাকে এ গাছটি। গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে এ ফুলের চাহিদা বেশি। মুখোরুচক ও পুষ্টিগুনে ভরা এ ফুল নানাহ খাবার তৈরিতে ব্যবহার হয়ে থাকে। হাট-বাজার জুড়ে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি হোনালু ফুল বিক্রি হয়ে থাকে। ফুলগুলো নানাহ গুনে ও স্বাদ বেশি হওয়ায় যে কোন বয়সের মানুষের অনেক পছন্দ।

স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানায়, হোনালু ফুল সবজিতে ক্যালসিয়াম, খনিজ লবন, আয়রন, প্রোটিন ও শর্করা জাতীয় খাদ্যের উপকরণ রয়েছে। এ ছাড়া ভিটামিন এ.বি. ও সি সমৃদ্ধ হোনালু ফুল ও পাতা মানব দেহের জন্য অত্যান্ত উপকারী। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এ গাছটির ফুল ও পাতা ঔষধি উপকরণ হিসাবেও ব্যবহার হয়ে থাকে।

স্থানীয় পরিবেশবিদদের একাধিক সূত্র জানায়, মানব দেহের পুষ্টিছাড়াও এ হোনালু গাছটির পাতা ও ফুল পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, রক্তশুন্যতাসহ নানাহ কাজে উপকারী উপকরণ। কিন্তু এ গাছটি সংরক্ষনে কোন সংস্থাও এগিয়ে আসছে না। মনে হচ্ছে প্রতিনিয়ত এ গাছটি বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে জেলা-উপজেলা বন বিভাগ, কৃষি দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তর কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular