ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
HomeUncategorizedশিশু পার্কের পাশে ময়লার ভাগাড়— বিনোদন না বিষাক্ত ফাঁদ!

শিশু পার্কের পাশে ময়লার ভাগাড়— বিনোদন না বিষাক্ত ফাঁদ!

প্রফেসর মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ফরাজী

রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ ও কলাবাগান সংলগ্ন এলাকায় শিশুদের জন্য একটি পার্কের পাশে সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন বর্জ্য জমা ও সংরক্ষণের স্থান থাকার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যে স্থানটি শিশুদের খেলাধুলা, নির্মল বাতাস গ্রহণ ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য নির্ধারিত, তার পাশেই নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা জমা করা হয়।

ময়লার স্তূপে পচনশীল জৈব বর্জ্য, প্লাস্টিক, কাগজ, পলিথিন, ধাতব পদার্থসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য জমতে থাকে। এসব বর্জ্য দীর্ঘসময় পড়ে থাকলে দুর্গন্ধ, জীবাণু, মাছি, মশা, ইঁদুর ও অন্যান্য রোগবাহক প্রাণীর বিস্তার ঘটতে পারে। বর্জ্যের তরল অংশ মাটি ও পানিকে দূষিত করারও আশঙ্কা থাকে। WHO বলছে, অপরিকল্পিত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পানি, মাটি ও বায়ু দূষণের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং শিশুরা বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

আরও ভয়াবহ বিষয় হলো—বর্জ্য পোড়ানো হলে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। WHO-এর ২০২৫ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো থেকে বিভিন্ন ক্ষতিকর বায়ুদূষক নির্গত হয় এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শে কাশি, ত্বকের জ্বালা ও শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে PM2.5 ও PM10-এর মতো সূক্ষ্ম কণিকা মানুষের শ্বাসতন্ত্রের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। WHO বলছে, বায়ুদূষণ শিশুদের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, হাঁপানি, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস, মস্তিষ্কের বিকাশে বিরূপ প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন গুরুতর রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।

শিশু বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদগণ এবং এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন—

শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এই সমস্যা সমাধানে সিটি কর্পোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হলে, উচিত:

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি গ্রহণ করা।

স্থানীয় জনগণের মতামত ও উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করা।

নিয়মিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়ন করা, যাতে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

সচেতনতা বৃদ্ধি করতে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনা ও কর্মশালা আয়োজন করা।

লেখক- কলামিস্ট ও গবেষক

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular