ঢাকা  সোমবার, ২০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধসম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর নির্যাতনের অভিযোগ বৃদ্ধার

সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর নির্যাতনের অভিযোগ বৃদ্ধার

নিউজ ডেস্ক: ময়মনসিংহে নিজের সম্পত্তি বড় মেয়ে ও জামাতার নামে লিখে দেওয়ার পর ভরণপোষণ বন্ধ এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন প্রায় ৮০ বছর বয়সী রহিমা খাতুন।
 
রোববার (৪ অক্টোবর) ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
 

রহিমা খাতুনের অভিযোগ, প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর আগে বিভিন্ন কৌশলে তাঁর মালিকানাধীন সাত শতক জমির ওপর নির্মিত পাঁচতলা ভবনের চারটি তলা নিজেদের নামে লিখে নেন তাঁর বড় মেয়ে ফারজানা সুলতানা কাবেরি ও জামাতা হায়দার জাহান ফারাশ। সম্পত্তি হস্তান্তরের পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে বলে দাবি করেন তিনি।

বৃদ্ধার ভাষ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে তাঁর ভরণপোষণ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। এমনকি সম্পত্তি থেকে পাওয়া আয় থেকেও তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে রহিমা খাতুন বলেন, জীবনের শেষ সময়ে এসে তিনি নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কথিতভাবে প্রতারণার মাধ্যমে সম্পাদিত সম্পত্তির দলিল বাতিল এবং আইন অনুযায়ী ভরণপোষণ পাওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে পিতা-মাতার ভরণপোষণ-সংক্রান্ত আইনি অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এই বৃদ্ধা।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মেয়ে ও জামাতার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। একটি প্রতিবেদনে তাঁদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি বলে জানানো হয়েছে। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য ছাড়া কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।-

ঘটনাটি বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সম্পত্তি হস্তান্তর, ভরণপোষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও আইনি প্রশ্ন সামনে এনেছে। রহিমা খাতুনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular