নিউজ ডেস্ক : সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, সরকারি চাকরিজীবীরা যদি কোনো ধরনের প্রকাশ্য আন্দোলন, অবৈধ কর্মবিরতি বা কর্মস্থলে শৃঙ্খলাহীন অবস্থা সৃষ্টি করে, তবে তাদের তৎক্ষণাৎ বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হবে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়। সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর অধিকতর সংশোধনকল্পে প্রণীত এই অধ্যাদেশ ‘সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নামে অভিহিত হবে।
আইনি ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুসারে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী চাকরি থেকে অবসর দিতে সরকারকে অধিকার প্রদান করে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য জরুরি কারণ হিসেবে বলা হয়েছে— কর্মস্থলে অনুপস্থিতি / কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য / অন্যদের কাজে বাধা ইত্যাদি।
সচিব পর্যায়ে বহু আগে থেকে এই নিয়ম প্রয়োগ হচ্ছে—কয়েকজন সচিব ও ডিসিকে ইতিমধ্যেই বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে, কারণ তাদের চাকুরি ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে।
তবে নতুন ঘোষণায়- যে কোনো স্তরের কর্মচারী, যদি আন্দোলন করে, তাও অবসর দেওয়া হবে।
‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর ৪৫ ধারা সরকারকে অধিকার দেয় একজন সরকারি কর্মচারীকে জনস্বার্থে চাকরি থেকে অবসর দেওয়ার। এটি মূলত ২৫ বছর চাকরি সম্পন্ন বা গুরুতর বিশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।
সাম্প্রতিক সময়ে কর্মস্থলে অনিয়ম, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য, ভাংচুর-হাঙ্গামার মতো আচরণ বেড়ে যাওয়ায়, সরকার কর্মবিরতি ও অবৈধ আন্দোলনকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করছে।
বাধ্যতামূলক ও স্বেচ্ছায অবসর পার্থক্য: আগে সরকারের নীতি ছিল—প্রধানত ২৫ বছর চাকরি পূর্ণ হলে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া। কিন্তু এখন ১৫ বছর চাকরি করার পরই অযাচিত আন্দোলন বা কর্মবিরতি ঘটলে কেউ অবসর পেতে পারে। অর্থাৎ, শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রক্রিয়াটি আরও কড়া ও সময়ভিত্তিক হচ্ছে।
সরকারের লক্ষ্য কর্মস্থলে নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সেবা নিশ্চিত করা। বিশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে—আর শেষে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা হবে।
কর্মস্থলে নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতে সরকার এবার কঠোর পথে হাঁটছে—প্রতিবাদ বা আন্দোলন করলে অবকাশ ছাড়াই অবসর।-
এই ঘোষণার উদ্দেশ্য হলো সরকারি অফিসে নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষা। তবে বাস্তবে এটি কীভাবে প্রয়োগ করা হয়—নিয়মিত কর্মচারী ও পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগ ও নজরদারি তৈরি করেছে।



