ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআইন ও আদালতইসলামী ব্যাংক শেয়ার কেলেঙ্কারিতে সাহাবুদ্দিনসহ ২১ জনের সংশ্লিষ্টতা

ইসলামী ব্যাংক শেয়ার কেলেঙ্কারিতে সাহাবুদ্দিনসহ ২১ জনের সংশ্লিষ্টতা

নিউজ ডেস্ক : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শেয়ার নিয়ন্ত্রণ, জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২১ জনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে এসেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) তদন্ত প্রতিবেদনে। হাইকোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও আদালত-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ তদন্ত শেষে বিএফআইইউ ৪২ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেয়। এতে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আগামী বুধবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হন মো. সাহাবুদ্দিন। পরবর্তী সময়ে তিনি ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে ওই পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় এস আলম গ্রুপসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বিএফআইইউর প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, জেএমসি বিল্ডার্স ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ বের করে সেই অর্থ ব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনে। একই সময়ে পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদনের অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে ব্যাংকটি আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে তদন্তে দাবি করা হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান কর্তৃপক্ষের করা মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ মোট ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় শেয়ার জালিয়াতি, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, জাল দলিল তৈরি, হিসাব জালিয়াতি ও ফৌজদারি বিশ্বাসভঙ্গের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে, বিএফআইইউর প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে আদালত বিষয়টি আরও তদন্তের জন্য দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ হবে পরবর্তী তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।-

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারি ও ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের অভিযোগ নিয়ে হাইকোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকে এখন সংশ্লিষ্ট মহলের নজর রয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular