মোঃ নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ‘ককাস অব আমেরিকা’র মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দুই দেশের পার্লামেন্টারি সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ‘ককাস অব আমেরিকা’র কো-চেয়ারম্যান ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, এমপির সাথে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিচালক আল্লা পি. কামিনস এবং উপ-পরিচালক সারাহ ডি. অলড্রিচ-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, “বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী হোক—এটাই আমাদের লক্ষ্য। সংসদীয় কূটনীতির মাধ্যমে দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বর্তমান অগ্রগতি, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকট, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ নিয়মিত সংসদীয় সংলাপের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই ভিত্তির ওপর এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে গঠিত ‘ককাস অব আমেরিকা’ দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময়, নীতিগত সংলাপ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটনের এই বৈঠককে সেই উদ্যোগের প্রথম বাস্তব ও কার্যকর অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় সংসদীয় কূটনীতি রাষ্ট্র-রাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকার-টু-সরকার যোগাযোগের পাশাপাশি আইনপ্রণেতাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা নীতিনির্ধারণ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের আদান-প্রদান এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; বরং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও কার্যকর, প্রাতিষ্ঠানিক ও ভবিষ্যতমুখী কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ দেওয়ার একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। ইউএস ককাস, স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সমন্বিত সম্পৃক্ততা আগামী দিনে দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে কূটনৈতিক মহলের প্রত্যাশা।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমানে নতুন গতি অর্জন করেছে। তৈরি পোশাক ও অন্যান্য খাতে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, জলবায়ু সহনশীলতা, সাপ্লাই চেইন সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা—এসব ক্ষেত্র ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। সংসদীয় ককাসের সক্রিয় ভূমিকা এসব সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সহায়ক হবে বলেও মনে করা হচ্ছে।




