ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়দিল্লির প্রথম বিমসটেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে যাচ্ছেন না সালাহউদ্দিন

দিল্লির প্রথম বিমসটেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে যাচ্ছেন না সালাহউদ্দিন

নিউজ ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিমসটেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সদস্যদেশগুলোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দিনের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে সাত সদস্যদেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক।

বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্রমণি পান্ডে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ছাড়া অন্য ছয় সদস্যদেশের মন্ত্রী বা মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেবেন।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও গত ৪ অক্টোবর ‘First Meeting of BIMSTEC Senior Officials of Home Ministries (SOM-H)’ এবং ‘First Meeting of BIMSTEC Home Ministers (HMM)’-এ অংশগ্রহণসংক্রান্ত সরকারি অনুমোদন প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্ক, বিমসটেক ও অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক বিষয়াবলির অতিরিক্ত সচিব এ কে এম শহিদুল করিম এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেবেকা খানও রয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪ অক্টোবর বিমসটেক সচিবালয়ে পাঠানো কূটনৈতিক চিঠিতে ১২ ও ১৩ অক্টোবরের বৈঠকের জন্য চার সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নাম জানায়। ওই তালিকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম ছিল না।

বিমসটেক সচিবালয় ও কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মঙ্গলবারের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। তার আগে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনের।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংকক ঘোষণার মাধ্যমে বিমসটেকের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে জোটটির সাত সদস্য হলো বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান। বিমসটেক সচিবালয় ঢাকায় অবস্থিত।

বাংলাদেশ ২০২৫ সালের এপ্রিলে বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে।

প্রতিষ্ঠার প্রায় তিন দশক পর এবারই প্রথম সদস্যদেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা পৃথক বৈঠকে বসছেন। যদিও এ ধরনের বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল আট বছর আগে।

২০১৮ সালের ৩০ ও ৩১ আগস্ট নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে সদস্যদেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠকের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

২০২৫ সালের এপ্রিলে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ২০তম বিমসটেক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক আয়োজনসংক্রান্ত একটি ধারণাপত্র অনুমোদিত হয়।

দিল্লির বৈঠকে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ ও আন্তসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।

আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে মানব পাচার, অবৈধ মাদক ও প্রিকারসর রাসায়নিক পাচার, অর্থ পাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং আইন প্রয়োগকারী ও নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে তথ্য ও গোয়েন্দা সহযোগিতা জোরদারের বিষয় রয়েছে।

গত ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিমসটেকের ‘Joint Working Group on Counter-Terrorism and Transnational Crime’-এর ১১তম বৈঠকের প্রতিবেদন ও সুপারিশও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশসহ সাত সদস্যদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দিল্লি না যাওয়ার আনুষ্ঠানিক কারণ বাংলাদেশ সরকার প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানায়নি। তবে একাধিক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার বরাতে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে চলমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের পর ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে বিভিন্ন ইস্যুতে দূরত্ব তৈরি হয়। বাংলাদেশ শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছে; বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও যোগ দেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে ভারত তাঁকে ওই অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিকে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বিরোধের ফল হিসেবে সরকারি ঘোষণা না থাকায় বিষয়টিকে কূটনৈতিক সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে অংশ না নিলেও বাংলাদেশ দিল্লির বৈঠক বর্জন করছে না। বরং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পর্যায়ের কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল পাঠানো হচ্ছে। ফলে সন্ত্রাসবাদ, আন্তসীমান্ত অপরাধ, মানব ও মাদক পাচার, অর্থ পাচার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।-

বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাত দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে দিল্লির প্রথম বিমসটেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব না থাকা ঢাকা-নয়াদিল্লির বর্তমান রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিকভাবে বিশেষ নজর কাড়ছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular