ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধস্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গুলির কথা শুনেও গেট খোলেননি বাড়িওয়ালা-দারোয়ান!

স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গুলির কথা শুনেও গেট খোলেননি বাড়িওয়ালা-দারোয়ান!

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী রামপুরার বনশ্রী এলাকায় আনোয়ার হোসেন (৪৩) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গুলি করে তার সঙ্গে থাকা ২০০ ভরি স্বর্ণ ও নগদ এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে তাকে সন্ত্রাসীরা গুলি করেছে এবং কুপিয়ে আহত করে রাস্তায় ফেলে রেখেছে জানানোর পরেও বাড়ির গেট খোলেননি বাড়িটির মালিক ও দারোয়ান। গণমাধ্যমকে এমন অভিযোগ করেছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীর স্ত্রী।

তিনি জানান, রাতে গুলির শব্দ শুনে তিনি (ব্যবসায়ীর স্ত্রী) বাহিরে আসেন। দেখতে পান তার স্বামীকে গুলি করে এবং কুপিয়ে পালিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা।

নিজের ভাড়া করা বাড়ির সামনেই গুলি করে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে থাকা ২০০ ভরি স্বর্ণ ও নগদ এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।

ব্যবসায়ীর স্ত্রী জানান, তিনি সঙ্গে সঙ্গে নিচে নেমে আসেন। দেখতে পান বাড়ির গেইটে তালা দেওয়া। তখন দারোয়ানকে চাবি দিয়ে গেট খুলে দিতে বলেন এবং স্বামীর এমন অবস্থা দেখে চিৎকার দেন। কিন্তু দারোয়ান চাবি না দিয়ে বলেন বাড়িওয়ালা কাছে যেতে। দৌঁড়ে তৃতীয় তলায় বাড়িওয়ালার ফ্লাটের কাছে গিয়ে দরজা খুলতে বললে কেউ সাড়া দেন না।

তার অভিযোগ চিৎকার ও কান্না করার পরেও পুরো বাড়ির কেউই তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি।

তবে দারোয়ানের দাবি, বাড়ির মালিক দেশের বাইরে থাকেন। এ বাড়িতে একজন কেয়ারটেকার রয়েছেন, তিনি তিন তলায় থাকেন। স্বর্ণ ব্যবসায়ীর স্ত্রী যে অভিযোগ করছেন তা সঠিক নয়।

গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বনশ্রী ডি ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। ওই বাড়িতেই থাকেন আহত আনোয়ার। তিনি বনশ্রী সি ব্লকের ৫ নম্বর রোডের অলংকার জুয়েলার্স এর মালিক।

আহত আনোয়ারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার বন্ধু মজিবুর রহমান তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

গণমাধ্যমকে বন্ধু মজিবুর বলেন, ‘আমার সঙ্গে আনোয়ারের ব্যবসা আছে। আমি ওর সঙ্গে ব্যবসায় জড়িত আছি। ওর দোকানের নাম অলংকার জুয়েলারি। প্রতিদিনই সে রাত সাড়ে ১০টায় দোকান বন্ধ করে। অন্য দিনের মত ঘটনার রাতেও ১১টার আগে দোকান বন্ধ করে বাসায় আসতে থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার দোকানে এবং বাসায় দু’জায়গাতেই স্বর্ণের ভল্ট আছে। প্রতিদিনই বড় বড় স্বর্ণগুলো সে বাসায় নিয়ে আসে। দোকান থেকে বাসা হাটা পথ। তার কাছে ২০০ ভরি স্বর্ণ ছিল। নগদ এ লাখ টাকা ছিল। সে মোটরসাইকেলে করে বাসায় আসছিল। কিন্তু ৭ নম্বর রোডের মাথা থেকে তিনটি মোটরসাইকেল তাকে ফলো করে। ঠিক যখন বাসায় ঢুকবে, গেইটের সামনেই মোটরসাইকেলগুলো এসে তাকে ব্যারিকেড দেয়। এসেই এলোপাতাড়ি গুলি ও কোপ দিয়ে সব নিয়ে যায়।’

তিনি জানান, তার (আনোয়ার হোসেন) শরীরের চার জায়গাতে গুলি লেগেছে। সে দীর্ঘ ২০ বছর ধরেই বনশ্রীতে ব্যবসা করে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular