নিজস্ব প্রতিবেদক : অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। একই সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার দায়িত্বও যথাযথভাবে পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বুধবার রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দেশের কোনো সংকট দেখা দিলে ছাত্রসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। অতীতের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে ছাত্ররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানেও ছাত্রসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে লেখাপড়া থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পড়াশোনার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দেশ ও সমাজের প্রয়োজনে তারা এগিয়ে আসবে, তবে কোনোভাবেই শিক্ষাজীবন ও জ্ঞানচর্চা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া যাবে না।
বই ও পাঠাগারের গুরুত্ব তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্ম মোবাইল ফোন, ই-বুক কিংবা প্রচলিত বই—যেভাবেই পড়ুক না কেন, পড়ার অভ্যাস ধরে রাখতে হবে। লেখাপড়া ছাড়া কোনো জাতি বিশ্বের বুকে গৌরব অর্জন করতে পারে না।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শৃঙ্খলা, সচেতনতা ও জনগণের সেবা ছিল তাঁর নেতৃত্বের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। পরে বেগম খালেদা জিয়া দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর অন্যতম পরিচয় হয়ে ওঠে ‘আপসহীন নেত্রী’। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তাঁর ধৈর্যশীলতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গে ড. মঈন খান বলেন, তৃণমূলের রাজনীতিকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে তরুণ ও নতুন প্রজন্মকে সংগঠিত করেছেন। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর নেতৃত্ব ও পরিকল্পনাকে দূরদর্শিতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
জিয়া স্মৃতি বইমেলার উদ্যোগের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বই ও পাঠাগার শুধু জ্ঞানচর্চার মাধ্যম নয়, একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সভ্যতা সংরক্ষণেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যেও বই পড়ার সংস্কৃতি ধরে রাখা জরুরি।
তিনি বলেন, একটি জাতির অগ্রগতি ও গৌরবের ভিত্তি হচ্ছে জ্ঞান ও শিক্ষা। নতুন প্রজন্মকে জ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে বইমেলা ও পাঠাগারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি।




