সুমন দত্ত: ইন্সটিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) এর অবৈধ কমিটি গঠনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে সচেতন প্রকৌশলী সমাজ। নতুন কমিটি বাতিল চেয়ে প্রকৌশলী সৈয়দ মাহফুজ আহমেদ সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। শনিবার (১ মার্চ ২০২৫ ইং) তারিখে জাতীয় প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, ১৬ বছর ধরে স্বৈরশাসন ও অপশাসনের ফলে প্রত্যেকটি সরকারী প্রতিষ্ঠানসহ পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান সমূহ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। দেশের সকল অবকাঠামো, যেমন- ভবন, ব্রিজ, রাস্তাঘাট, রেল, সিভিল এভিয়েশন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পেট্রোলিয়াম, শিল্প-কলকারখানা, তথ্য প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তনসহ সকল ক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রকৌশলীদের পেশার মান উন্নয়নের উপর দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নির্ভরশীল। কিন্তু দলীয় লেজুড়বৃত্তির কারণে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নামে আইইবির পদ ব্যবহার করে দুর্নীতি, তদবিরবাজী, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজীর মাধ্যমে গত ১৬ বছরে আইইবিকে একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।
তারা বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল শক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে দেশবাসী স্বৈরশাসক ও তার দোসরদের দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রকৌশলীদের একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান ইনিস্টিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ(আইইবি) অবৈধভাবে দখলকারী বিগত ফ্যাসিবাদের দোসররা বর্তমানে পলায়নরত আছে।
এই অচলাবস্থা নিরসনে আমরা আইইবির গঠনতন্ত্রের ৫২(বি) অনুযায়ী ২৬০জন সদস্যগনের স্বাক্ষর গ্রহণ করে রিকুইজিশন সভা আহবানের জন্য প্রেসিডেন্ট আইইবি কে অনুরোধ করা হয় যার কোন প্রত্যুত্তর পাওয়া যায় নাই।
ইতিমধ্যে AEB এর তিনজন সদস্য অন্য প্রতিষ্ঠান Association of Engineers Bangladesh (AEB) এর প্যাড ব্যবহার করে ২৩ অক্টোবর তারিখে কাল বেলা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারি করে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ২৪ অক্টোবর তারিখে একটি EOGM (Extra Ordinary General Meeting) আইইবি প্রাঙ্গণে আহবান করে এবং অবৈধভাবে চর দখলের মত প্রেসিডেন্ট, সাধারণ সম্পাদক সহ ১০ সদস্য বিশিষ্ট আইইবির সদর দপ্তরের এবং চার সদস্যের আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের কমিটি গঠন করে।
নিম্নোক্ত কারণে ফ্যাসিবাদী কায়দায় করা কমিটি সম্পূর্ণ অবৈধ:
১। আইইবি গঠনতন্ত্রের চ্যাপ্টার ৬ এর ৫২ উপ-বিধি অনুযায়ী কেবল প্রেসিডেন্ট আইইবি EOGM বা Requisition meeting ডাকতে পারবে অন্য কেহ নয়। তাছাড়া EOGM এর সভাপতি নির্বাচনে Bye laws এর চ্যাপ্টার ৬ এর ৩৯ ধারা অনুসরণ করা হয় নাই।
২। আইইবি গঠনতন্ত্রের চ্যাপ্টার ৬ এর৫১ উপ- বিধি অনুযায়ী কমপক্ষে ২১ দিন পূর্বে সকল সদস্য এবং সহযোগী সদস্যগনে সভার নোটিশ পাঠাতে হবে। অথচ EOGM আহ্বানকারীরা ফ্যাসিবাদী কায়দায় কোন নোটিশ না পাঠিয়ে এক দিন পূর্বে একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে সভা আহবান করেছে যা সম্পূর্ণ অবৈধ। একদিনের নোটিশ EOGM আহবান কার্যকরভাবে অধিকাংশ সদস্যদের অংশগ্রহণের ন্যায্য সুযোগ অস্বীকার করেছে।
৩। আইইবি গঠনতন্ত্রের চ্যাপ্টার ৬ এর ৫২ উপ- বিধি অনুযায়ী EOGM এ কেবল একটি এজেন্ডা থাকবে। কিন্তু EOGM সভার নোটিশে, এমনকি সভায় ব্যবহৃত ব্যানারেও কোন এজেন্ডা ছিল না যা সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত। তাছাড়া ব্যানারে আইইবির কোন লোগো ছিল না।
৪। আইইবি গঠনতন্ত্রের চ্যাপ্টার ৬ এর ৫২ উপ- বিধি অনুযায়ী EOGM এ কর্পোরেট সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু ভোট ব্যতীত বক্তব্য প্রদানকৃত সদস্যদের মতামতের তোয়াক্কা না করে হীন স্বার্থ চরিতার্থের জন্য ফ্যাসিবাদী কায়দায় অবৈধভাবে মনগড়া কমিটি প্রকাশ করা হয়।
৫। Bye laws এর চ্যাপ্টার ৫ এর ৩০ ধারার ব্যতয় ঘটিয়ে Central Election Committee ব্যতীত অবৈধভাবে চর দখলের মত প্রেসিডেন্ট, ব্যত্যয় সম্পাদক সহ ১০ সদস্য বিশিষ্ট আইইবির সদর দপ্তরের এবং চার সদস্যের আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের কমিটি গঠন করে প্রচার করে যারা সকলেই AEB এর সদস্য।
৬। অবৈধভাবে ঘোষিত প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের সহ-সভাপতি (ইঞ্জি. এটিএম তানভীরুল হাসান তমাল, F/8650) ইতিপূর্বে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও মনোনীত করা হয়েছিল, যা IEB-এর সাংবিধানিক প্রয়োজনীয়তার (Chapter V, 47b) এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। একইভাবে ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ইঞ্জি. হেলাল উদ্দিন তালুকদার (F/7775), ইঞ্জি. আবদুল্লাহ আল মামুন, (M/32032 ) Constitution এর Chapter V, এর 47c, f শর্ত লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।
৭। বাংলাদেশ সরকার প্রতিবছর অর্থ মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে ‘দি ইনিস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি) কে গবেষণাসহ বিভিন্ন খাতে আর্থিক বরাদ্দ প্রদান করে থাকে, যার অপচয় ঘটতে পারে অনৈতিকভাবে গঠিত কমিটির মাধ্যমে।
বিগত ১৬ বৎসরের অভিজ্ঞতায় সাধারণ প্রকৌশলী সমাজ আইইবিকে দলীয় লেজুরবৃত্তের ঊর্ধ্বে পেশাজীবী বান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়। পূর্বের ন্যায় রাজনৈতিক দল এবং আইইবির পদ ব্যবহার করে সরকারী বিভিন্ন বিভাগে পোস্টিং/পদোন্নতির অনৈতিক তদবির, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজী সাধারণ প্রকৌশলী সমাজ দেখতে চায় না।
সাম্প্রতিক ছাত্র-নেতৃত্বাধীন এবং গণতান্ত্রিক চর্চা পুনঃ-প্রতিষ্ঠার পক্ষে জনগণের আন্দোলনের সাথে, এখন IEB-এর মূল নীতিগুলি পুনঃ-প্রতিষ্ঠা করার একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু অবৈধভাবে দখলকারী বর্তমান কমিটি সাধারণ প্রকৌশলীদের পক্ষে কোন ভূমিকা রাখতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ।
উদাহরনস্বরুপ, উপদেষ্টা পরিষদে এবং প্রশাসনিক সংস্কার কমিটিতে কোন প্রকৌশলীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই, ২৫ ক্যাডারের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন, চলতি দায়িত্ব প্রদান করে দীর্ঘ দিন পদন্নোতি বিলম্বিত করা, কারিগরি পদে অযৌক্তিকভাবে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদায়ন, শুধুমাত্র প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ভূতাপেক্ষ পদন্নোতি প্রদান করা, সম্প্রতি কুয়েট এ দুই পক্ষ ছাত্রদের সংঘর্ষ ও হল বন্ধ ইত্যাদি বিষয়ে আইইবির কোন ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। এইভাবে আইইবি একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে আইইবতে অবৈধভাবে গঠিত কমিটি বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ করে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য সরকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহবান করছি।



