নিউজ ডেস্ক: আদ্ব- দ্বীন মহিলা মেডিকেল কলেজের ভারতীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের উন্নতির জন্য অনুরোধ জানিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বরাবর একটি চিঠি প্র্রদান করেছে বিদেশী শিক্ষার্থীরা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ’আমরা আদ্ব- দ্বীন মহিলা মেডিকেল কলেজ, ২ বড় মগজার , রমনা, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ-এর ভারতীয় ছাত্রীরা, আমাদের প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে থাকা অনিশ্চয়তা এবং অন্যান্য মেডিকেল কলেজে ছাত্রীদের স্থানান্তরের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিনীতভাবে এই আবেদনপত্র পেশ করছি।’
উল্লেখ্য, বর্তমানে আদ্ব- দ্বীন মহিলা মেডিকেল কলেজে বিদেশী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় ছাত্রী অধ্যয়নরত আছেন।
মেডিকেল কলেজ নিয়ম অনুযায়ী নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।
১. একই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ
ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (NMC), ফরেন মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট লাইসেন্সিয়েট রেগুলেশনস, ২০২১-এর অধীনে, ছাত্রীদের তাদের চিকিৎসা শিক্ষা, ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ, ক্লার্কশিপ এবং ইন্টার্নশিপ মেডিকেল শিক্ষার্থীরা একই প্রতিষ্ঠান থেকে সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশ দেয় কারণ মেডিকেল শিক্ষার্থীরা একই প্যাটার্ণ সম্পর্কে পূর্ণ প্র্রশিক্ষণ পেয়ে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে এবং সেবাদান কাজে সফলতার নিশ্চয়তা বেড়ে যায়। অন্যদিকে এই সময়কালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বদলি হলে এই শর্তাবলী পূরণের ক্ষেত্রে গুরুতর অসুবিধা সৃষ্টি হতে পারে এবং এটি মেডিকেল শিক্ষায় ঘাটতি থেকে যায় এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিবন্ধন ও চিকিৎসা পেশার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
২. শিক্ষাগত ধারাবাহিকতার ব্যাঘাত
অনেক শিক্ষার্থী বর্তমান প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে বেশ কয়েক বছরের পড়াশোনা এবং পেশাগত পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এই পর্যায়ে বদলি হলে শিক্ষাগত রেকর্ড, ক্লিনিক্যাল পোস্টিং, উপস্থিতি, লগবুক এবং প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
৩. ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের উপর প্রভাব
শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল দক্ষতা বছরের পর বছর ধরে ওয়ার্ড-ভিত্তিক শিক্ষা, রোগীর শয্যাপার্শ্বে শিক্ষাদান এবং হাসপাতালে পোস্টিংয়ের মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে। হঠাৎ বদলি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক চিকিৎসা শিক্ষার ধারাবাহিকতা এবং গুণমানের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
৪. ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের ঝুঁকি
শিক্ষার্থীদের যোগ্যতার স্বীকৃতিকে প্রভাবিত করে এমন যেকোনো বিষয় শিক্ষার্থীদের পরিবারের বছরের পর বছরের শিক্ষাগত প্রচেষ্টা, পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক বিনিয়োগকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
৫. আর্থিক ও মানসিক প্রভাব
শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মানসিক চাপ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, যাদের মধ্যে অনেকেই চিকিৎসা শিক্ষায় তাদের সারাজীবনের সঞ্চয় বিনিয়োগ করেছেন।




