নিউজ ডেস্ক : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার ২০১৩-১৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান (কামাল)সহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছে। ট্রাইব্যুনাল পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে দুইটিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড, আর একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করেছে; একই সঙ্গে এক অভিযোগে আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে (রাজসাক্ষী বা অ্যাপ্রুভার) এ মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন—বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রায় উল্লিখিত অভিযোগের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে—উসকানিমূলক বক্তব্য, পরিকল্পিতভাবে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূলের নির্দেশ, রংপুরে একজনকে হত্যা, চানখাঁরপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ও আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ। ট্রাইব্যুনালে মোট ৫৪ জন প্রত্যক্ষদর্শী, আহত ব্যক্তি ও চিকিৎসক সাক্ষ্য দিয়েছেন; পাশাপাশি অডিও-ভিডিও, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত প্রসঙ্গ এবং জব্দকৃত গুলি ইত্যাদি প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
রায় প্রদানকারী তিন সদস্যের বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মরতুজা মজুমদার; অন্যান্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। মেডিয়ায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি বর্তমানে পলাতক এবং বিদেশে অবস্থান করছে—এ কারণে শাস্তি কার্যকরের প্রশ্ন ও জটিলতা রয়েছে। মামলার একমাত্র গ্রেপ্তারকৃত আসামি মামুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জবানবন্দি দিয়েছেন, যা মামলার রেকর্ডে উল্লেখ রয়েছে।
আইনি পরবর্তী ধাপ হিসেবে রায়ে আপিলের সুযোগ থাকবে; উচ্চ আদালতে আপিল ও রিভিউয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত বদলানোর সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে এটি একটি খুবই সংবেদনশীল রায়—দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য আইনপ্রয়োগকারী ও প্রশাসনকে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও রায়ের নথি উন্মুক্ত থাকার কারণে আগামী দিনগুলোতে আইনি কার্যক্রম ও আপিল পর্যায়ে বিস্তারিত বিতর্ক ও বিশ্লেষণ অব্যাহত থাকবে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ



