ঢাকা  মঙ্গলবার, ২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশআন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপন

আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপন

সাবিনা ইয়াসমিন

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে প্রায় অর্ধশত নৃত্যদলের ৬ শতাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে শুরু হলো ২ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানমালা।

২৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপন উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির  সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের আয়োজনে ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ২০২৬ আয়োজন করা হয়েছে ২ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। এতে প্রায় অর্ধশত নৃত্যদলের ৬ শতাধিক শিল্পী অংশগ্রহণ করছে।

আজ ২৮ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ৫টায়  জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ জাহেদ উর রহমান, মাননীয় উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা)-পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব কানিজ মওলা। অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্য গবেষক ও নৃত্য পরিচালক জনাব আমানুল হক। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব জনাব মোহাম্মদ জাকির হোসেন। 

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন “হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ যখন প্রাকৃতিক দূর্যোগের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে তখন নৃত্যের মধ্যেই ছিলো তাদের প্রথম অভয়। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে সংস্কৃতির যে বিভাগগুলো আছে প্রত্যেকটি বিভাগের চর্চায় আমরা মনোনিবেশ করেছি। বর্তমান নতুন সরকারের সাংস্কৃতিক নীতি অনুযায়ী গণমানুষের কাছে আমাদের সংস্কৃতিকে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যেই  কাজ করছি।  সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সর্বাত্নক সহযোগিতা এবং প্রেরণায় শিল্পকলা একাডেমি এগিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় প্রেরণা হচ্ছে আমাদের দর্শক-শ্রোতা, আমাদের জনসাধারণ। এই গণতান্ত্রিক সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি ইনক্লুসিভ সংস্কৃতি তৈরি করা, অন্তর্ভুক্তিমুলক সংস্কৃতি যেখানে সব মানুষ একসাথে আমরা একটা ঐক্যতান তৈরি করবো।”

মুখ্য আলোচক হিসেবে একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্য গবেষক ও নৃত্য পরিচালক জনাব আমানুল হক আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বক্তব্যে তিনি বলেন- “বাংলাদেশে নৃত্য দিবস তেমন বড় পরিসরে পালন করা হয় না তবে শিল্পকলা একাডেমির এই উদযাপন ভালো লাগছে। আশা করি এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা)-পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডাঃ জাহেদ উর রহমান বলেন, “কারো প্রভাবে (ইনফ্লুয়েন্সে) নয় আমরা বাংলাদেশি সংস্কৃতির লালন করতে চাই, সংস্কৃতির সর্বোচ্চ চর্চা করতে চাই। এটি বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য যেন প্রতিটা স্কুলে প্রতিটা শিক্ষার্থী অন্তত একটা যন্ত্র সংগীতে পারদর্শী হয়। সেক্ষেত্রে এ ধরনের অনুষ্ঠানমালার তথ্য সর্বস্তরের মানুষের কাছে এমনভাবে প্রচার করা প্রয়োজন, যাতে সবার কাছে সংস্কৃতির এই বার্তাগুলো যায়।”

সভাপতির বক্তব্যে সন্তানদের সাংস্কৃতিক শিক্ষায় উজ্জীবিত করতে অভিভাবকদের আহ্বান জানিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব কানিজ মওলা বলেন, “সন্তানদের ব্যাগের বোঝা কমিয়ে সংস্কৃতির দিকে পাঠান। অন্তত অন্য একটি পারফর্মিং আর্ট যেন তারা শেখে। সরকার যতই চেষ্টা করুক না কেন যদি এখানে সাধারণ মানুষের অনুর্ভূক্তি না থাকে তাহলে কিন্তু আমরা কোনো কিছুতেই এগিয়ে যেতে পারবো না। আমাদের শিল্প-সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতে সবাই এগিয়ে আসুন।”

বিকেল ৫টায় একাডেমি প্রাঙ্গণে ঢাক-ঢোল বাদক এবং দেশের প্রবীণ ও নবীন নৃত্যশিল্পীবৃন্দের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে মূল আয়োজনের শুরুতেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীবৃন্দ সমবেত নৃত্য ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ পরিবেশন করেন, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন ফিফা চাকমা। বেনজির সালাম এর পরিচালনায় ‘একি অপরূপ রূপে মা তোমায়’ গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যছন্দ নৃত্যদল এবং কবিরুল ইসলাম রতন এর পরিচালনায় নৃত্য ‘মোরা ঝঞ্জার মতো’ পরিবেশন করে নৃত্যালোক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। ‘মাস্তকালান্দার, মন আমার দেগ ঘড়ি’ গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে স্বাত্তিক শিল্পাশ্রম, নৃত্য পরিচালনা করেছেন আরিফ হোসেন শামীম এবং ‘তোমায় আমি পাইতে পারি’ গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যযতন, নৃত্য পরিচালনায় মো: নাজমুল হক। ‘সমমাময়িক নৃত্য – চেইজিং ড্রিসম’ পরিবেশন করে সাধনা, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন সাব্বির আহমেদ খান এবং সাইফুল ইসলাম সাকী’র পরিচালনায় নৃত্য ‘এসো প্রিয় মন রাঙায়ে’ পরিবেশন করে ছান্দসিক।

নুসাইবা রহমান এর পরিচালনায় ‘মকর পরব’ গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে নুপুরধ্বনি এবং বেলায়েত হোসেন খান এর পরিচালনায় নৃত্য ‘কলক্ঙিনী রাধা’ পরিবেশন করে গুরুকুল কালচারাল সেন্টার। এরপর নৃত্য ‘মেলবন্ধন’ পরিবেশন করে কাথ্যাকিয়া- দ্যা সেন্টার অফ আর্টস, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন জুয়েইরিয়াহ মৌলি ও এস এম হাসান ইশতিয়াক এবং ‘কত্থক -তারানা’ নৃত্য পরিবেশন করে অঞ্জলি নৃত্যাঙ্গন একাডেমি, পরিচালনা করেছেন মন্দিরা চক্রবর্তী। মুনমুন আহমেদ এর পরিচালনায় ‘জাপানী ও রাশিয়ান লোক নৃত্য’ পরিবেশন করে রেওয়াজ পারফরমার্স স্কুল এবং নাইমুর শাহাদাৎ এর পরিচালনায় নৃত্য ‘ধিতাং ধিতাং বোলে’ পরিবেশন করে নৃত্যকল্প। ‘কত্থক’ নৃত্য পরিবেশন করে আকৃতি নৃত্যদল, নৃত্য পরিচালনা করেছেন কচি রহমান এবং অন্তর দেওয়ান এর পরিচালনায় ‘বিজু উৎসবের নৃত্য’ পরিবেশন করে কালারস অফ হিল।

এস আই শফিক এর পরিচালনায় নৃত্য ‘আশেকজন দিওয়ানা’ পরিবেশন করে ঝংকার ললিতকলা একাডেমি এবং ‘ইন্সট্রুমেন্টাল (নির্মাণ) এর সাথে নৃত্য পরিবেশন করে ধ্রুপদী নৃত্যালয়, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন স্নাতা শাহরীন ও সংগীত পরিচালনায় ছিলেন নীল কামরুল। এরপর সমবেত নৃত্য ‘নদী ভরা ঢেউ’ পরিবেশন করে নাইম খান ডান্স কোম্পানী, নৃত্য পরিচালনায় আবু নাইম এবং ‘এসো শ্যামল সুন্দর’ গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে নান্দনিক নৃত্য সংগঠন, নৃত্য পরিচালনা করেছেন নিলুফার আহমেদ পাপড়ি। জিনিয়া জ্যোসনা’র পরিচালনায় নৃত্য ‘নীল দিগন্তে ঐ ফুলের আগুন লাগালো’ পরিবেশন করে জিনিয়া নৃত্যকলা একাডেমি এবং ‘দেখা না দিলে, মা লো মা, হাত ছাইড়া দাও’ গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে ভঙ্গিমা ডান্স থিয়েটার, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন সৈয়দা সায়লা আহমেদ লিমা। সবশেষে প্রান্তিক দেব এর পরিচালনায় দেব ডান্স একাডেমি পরিবেশন করে সমবেত নৃত্য ‘মেঘের পালক’।

নৃত্যানুষ্ঠান উপভোগ করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি।

২৯ এপ্রিল ২০২৬ বিকেল ৫টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব কানিজ মওলা এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)।

জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সমাপনী দিনে নৃত্য পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করবে ২৩টি দল। ২ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা সকলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

লেখক- জনসংযোগ কর্মকর্তা (প্রশাসন), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular