ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখেলাইতালিকে আবারও সিংহাসনে ফেরাতে চান মানচিনি

ইতালিকে আবারও সিংহাসনে ফেরাতে চান মানচিনি

ক্রীড়া ডেস্ক: ইতালির জাতীয় দলের কোচ রবার্তো মানচিনি দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি আবারও আজ্জুরিদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনবেন। তার নেতৃত্বে ইউরো ২০২০ জয়ের পর থেকে ইতালি আর কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেনি। পাশাপাশি দলটি টানা তিনটি বিশ্বকাপেও খেলতে ব্যর্থ হয়েছে।

মানচিনি এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইতালির কোচ ছিলেন। তার অধীনে ইতালি টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত ছিল, যা ছিল একটি রেকর্ড। তবে চলতি বছর সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে স্পেন।

বুধবার পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে মানচিনি বলেন, ‘আমরা চার বছরের চুক্তি করেছি। আমি আশা করি, অন্তত একটি বড় শিরোপা, কিংবা সম্ভব হলে দুটি জিততে পারব। তারপর যদি সুযোগ থাকে, আরও দীর্ঘ সময় এই দায়িত্বে থাকতে চাই।’

তিনি স্বীকার করেন, ২০২৩ সালে হঠাৎ করেই ইতালির দায়িত্ব ছেড়ে সৌদি আরবের কোচ হওয়ার সিদ্ধান্তে সমর্থকদের মনে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা দূর করাও এখন তার বড় চ্যালেঞ্জ। উল্লেখ্য, ইতালির অনূর্ধ্ব-২১ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র কয়েক দিন পরই তিনি সেই পদ ছেড়ে দেন।

৬১ বছর বয়সী মানচিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করব দলটিকে এত সুন্দর ও এত ভালো ফুটবল খেলাতে, যাতে সমর্থকেরা আবার এই দলকে ভালোবাসে এবং হয়তো যা ঘটেছিল, তার জন্য আমাকে ক্ষমাও করে দেয়। আমি সেটাই আশা করি।’

তিনি বলেন, ইতালির বর্তমান ফুটবলারদের মধ্যেই একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল গড়ার মতো যথেষ্ট প্রতিভা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দেশটির ক্লাবগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর আরও বেশি বিনিয়োগ করে এবং তাদের নিয়মিত খেলার সুযোগ দেয়।

আন্দ্রেয়া পিরলোকে ইতালির কোচ করার পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর মানচিনিকে আবার দায়িত্ব দেওয়া হয়। একটি রুশ বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিরলোর সম্পর্কের কারণে সেই পরিকল্পনা বাতিল হয়। এর জেরে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা পিরলোর সমর্থক পাওলো মালদিনি এবং লিওনার্দোও পদত্যাগ করেন।

মানচিনির সঙ্গে এফআইজিসির সভাপতি জিওভান্নি মালাগো ৭৪ বছর বয়সী ক্লদিও রানিয়েরিকে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। ইতালির জাতীয় দলের টেকনিক্যাল কার্যক্রম এবং অভিজাত পর্যায়ের ফুটবলার তৈরির উন্নয়ন তদারকি করবেন তিনি।

মানচিনি বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় দুটি লক্ষ্য আছে। প্রথমত, ইতালির সমর্থকদের আবার জাতীয় দলের প্রেমে পড়ানো। দ্বিতীয়ত, আমার ১২ বছর বয়সী নাতির মতো যেসব শিশু কখনো ইতালিকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখেনি, তাদের সেই সুযোগ করে দেওয়া।’

দ্বিতীয় মেয়াদে মানচিনির প্রথম ম্যাচ হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রোমে বেলজিয়ামের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্স লিগে। এরপর ৫ অক্টোবর বোলোনিয়ায় নিজেদের মাঠে তুরস্কের মুখোমুখি হবে ইতালি।

এই দুই ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হবে। শুরুতেই আমরা আমাদের প্রকৃত শক্তির মূল্যায়ন করতে পারব এবং কোন কোন জায়গায় উন্নতি করতে হবে, তা বুঝতে পারব। যাই হোক, এটি কঠিন একটি গ্রুপ। আমাদের জন্য যেমন কঠিন হবে, অন্য দলগুলোর জন্যও তেমনি কঠিন হবে।’

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular