নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ ব্যাংকের “ক্যাশলেস বাংলাদেশ” উদ্যোগকে সমর্থন করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক ঢাকার মেরুল বাড্ডায় অবস্থিত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নগদবিহীন লেনদেন সহজ করতে বাংলা কিউআর চালু করেছে।
৩০ জুলাই, ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এই উদ্যোগটির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফেরহাত আনোয়ার, পিএইচডি; বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট বিভাগ-১ এর পরিচালক এ.এন.এম. মইনুল কবির; পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগ-২ এর পরিচালক মো. শরফত উল্লাহ খান; এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খানসহ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী, পিএইচডি; কোষাধ্যক্ষ আরিফুল ইসলাম; এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মুজিবুল হক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটির অংশ হিসেবে গভর্নর শিক্ষার্থীদের সাথে একটি আলাপচারিতা সেশনে বাংলা কিউআর, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং নগদবিহীন অর্থনীতি প্রসারে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
এই উদ্যোগের অধীনে, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে টিউশন ও অ্যাকাডেমিক ফি, ক্যাফেটেরিয়া ও রিটেইল পেমেন্টসহ অন্যান্য দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন বাংলা কিউআর এবং অন্যান্য ডিজিটাল ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে।
এই উদ্যোগটি দেশের আন্তঃকার্যকরী কিউআর পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম বাংলা কিউআর-এর মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাতীয় কৌশলকেও সমর্থন করে। এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যাংক এবং মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারীদের গ্রাহকদের তাদের আর্থিক সেবা প্রদানকারী নির্বিশেষে একটিমাত্র কিউআর কোড ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক পেমেন্ট করার সুযোগ দেয়।
এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, “এই উদ্যোগটি দেখায় যে, প্রযুক্তি কীভাবে দৈনন্দিন লেনদেনকে আরও সহজ, দ্রুত এবং নিরাপদ করে তুলতে পারে। বাংলাদেশের প্রথম ক্যাশলেস ক্যাম্পাস চালু করতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে অংশীদার হতে পেরে আমরা আনন্দিত এবং উদ্ভাবনী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পেমেন্ট সমাধানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যাশলেস বাংলাদেশ স্বপ্নকে সমর্থন করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সৈয়দ ফেরহাত আনোয়ার বলেন, “একটি ডিজিটালভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও অর্থনীতি অর্জনের পথে বাংলা কিউআর একটি সাহসী পদক্ষেপ।” তিনি আরও বলেন, “তবে, সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ নিশ্চিত করতে হলে আমাদের সাধারণ মানুষের সংযোগ এবং স্মার্ট ডিভাইসের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে, যা সামগ্রিক ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের অন্য দুটি প্রধান স্তম্ভ।”
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং ক্লাবের (ফিন্যাক্ট) শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।
এই উদ্যোগটি ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং পেমেন্ট উদ্ভাবনে ব্র্যাক ব্যাংকের ধারাবাহিক নেতৃত্বের প্রতিফলন। এটি বাংলাদেশের আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নগদবিহীন অর্থনীতির দিকে যাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহযোগিতার শক্তিকেও তুলে ধরে।




