আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথের কাছে ইয়েমেনের তাইজ এলাকায় হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াইয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
ইরান-সমর্থিত হুথিরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে আকস্মিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই তাইজে তীব্র লড়াই চলছে।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত অনেকটা থেমে ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জুলাইয়ে ইয়েমেনে আবারও সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে।
হুথিরা মূলত জায়দি শিয়া সম্প্রদায়ভিত্তিক একটি সংগঠন। দেশটির উত্তরাঞ্চল তাদের প্রধান ঘাঁটি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ইয়েমেনের অধিকাংশ জনবহুল এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন একটি জোট সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। সরকার বর্তমানে দেশের দক্ষিণাঞ্চল, যার মধ্যে বন্দরনগরী এডেনও রয়েছে, নিয়ন্ত্রণ করে।
গত মাসে হুথিদের অভিযানের সময় তারা ইয়েমেনের অবশিষ্ট লোহিত সাগর উপকূলেরও নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর মধ্যে বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশের এলাকাও রয়েছে। এই প্রণালী শুধু সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানির জন্য নয়, বিশ্বব্যাপী নৌবাণিজ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রবার বিকেলে হুথিরা দাবি করে, গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি বাহিনী ৯৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৩৫০টি।
এদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুথিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের মতো অস্ত্র সীমান্তবর্তী শহর নাজরানের একটি স্কুলে আঘাত হেনে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। শহরটি ইয়েমেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তরে।
সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হামলার পরের কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে একটি গর্তসহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায় বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
হুথিদের সামরিক সূত্রের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় তাইজ এলাকায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে অন্তত ৫৫ জন সরকারবিরোধী যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইয়েমেন সরকারের সূত্র জানিয়েছে, তাদের পক্ষের ২৬ জন সেনা নিহত হয়েছেন।
তাইজের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্রন্টে লড়াই চলছে। এর মধ্যে এমন কিছু উঁচু পাহাড়ি এলাকাও রয়েছে, যেখান থেকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথিদের দখলে যাওয়া উপকূলীয় অঞ্চল দেখা যায়।
হুথিরা বিশাল এলাকা দখল করলেও এখনো তাইজ শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। সানা ও এডেনের পর তাইজ ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার হুথিরা সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকা ও সরকারের প্রধান ঘাঁটি এডেনের সঙ্গে যোগাযোগকারী একটি সেতু ধ্বংস করেছে।
ইয়েমেনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ বৃহস্পতিবার তাইজ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, হুথিদের সামরিক অভিযান বেসামরিক জনগণের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।
তিনি বলেন, বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। মানুষের আরও ক্ষতি ঠেকাতে এবং প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে নিরাপদ ও বাধাহীনভাবে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সব ধরনের চেষ্টা চালাতে হবে।
এদিকে শুক্রবার জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ইয়েমেনে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের বিষয়ে সতর্ক করেছে।
সংস্থাটি বলেছে, ইয়েমেনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ তাদের ন্যূনতম খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।
ইয়েমেনে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো জনশুমারি হয়নি। তবে জাতিসংঘের হিসাবে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ।
সূত্র: এএফপি




