ঢাকা  বুধবার, ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকইরানের ‘নতুন ও যুক্তিবাদী’ শাসনের সঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হচ্ছে, ট্রাম্প,

ইরানের ‘নতুন ও যুক্তিবাদী’ শাসনের সঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হচ্ছে, ট্রাম্প,

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তার প্রশাসন ইরানের একটি ‘নতুন এবং অধিকতর যুক্তিবাদী’ শাসনব্যবস্থার সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। ট্রাম্পের মতে, এই আলোচনার সফল পরিণতি ইরানে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযানের সমাপ্তি ঘটাতে পারে।

ইরানে যেহেতু মোজতবা খামেনির শাসনব্যবস্থা ছাড়া অন্যকোনো শাসনব্যবস্থা নেই, তাহলে ‘নতুন এবং অধিকতর যুক্তিবাদী’ সরকার দিয়ে কাকে বুঝিয়েছেন তা নিশ্চিত নয়।

নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই তথ্য শেয়ার করেন। তবে আলোচনার অগ্রগতির কথা জানালেও বরাবরের মতোই সুর চড়িয়ে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আমাদের সামরিক অভিযান শেষ করার লক্ষ্যে একটি নতুন এবং আরও যুক্তিবাদী রেজিমের (শাসনব্যবস্থা) সঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করছে। এই ক্ষেত্রে অনেক বড় অগ্রগতি হয়েছে।’’

তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, খুব দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে বা পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অবিলম্বে উন্মুক্ত না করা হলে যুক্তরাষ্ট্র চরম পদক্ষেপ নেবে।

যদি আলোচনা সফল না হয়, তবে ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি সরাসরি বলেন, ‘‘যদি কোনো কারণে শীঘ্রই চুক্তি না হয়… তবে আমরা ইরানের সমস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেল কূপ এবং খার্গ দ্বীপ (এবং সম্ভবত সমস্ত পানি শোধনগারও!) বোমা মেরে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে আমাদের এই ‘সুন্দর অবস্থান’ শেষ করব।’’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই স্থাপনাগুলো যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ‘ইচ্ছাকৃতভাবে স্পর্শ করেনি’।

ইরানের গত ৪৭ বছরের শাসনকালকে ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প বলেন, এই ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ হবে সেইসব মার্কিন সেনা ও সাধারণ মানুষের হত্যার প্রতিশোধ, যাদের ইরান দীর্ঘ সময় ধরে ‘কসাইয়ের মতো জবাই করেছে’।

একমাস অতিবাহিত হওয়া যুদ্ধে ইরানের শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে না পেরে ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের ওপরে ইরানের হামলার চাপে ট্রাম্প তার নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার দিকে ঝুঁকতে পারেন।

একই সময়ে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বড় সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছেন। সাড়ে তিন হাজার মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে হাজির হয়েছে। রবিবার রাতেও ট্রাম্প ইরানের তেল ভাণ্ডার ও খার্গ দ্বীপ দখলে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এদিকে তার কয়েকঘণ্টা পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ বোঝা কঠিন। কারণ এর আগে ট্রাম্প আলোচনার কথা বলে ও আলোচনা চলাকালীন ইরানে হামলা চালিয়েছেন। সূত্র: বিবিসি

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular