নিজস্ব প্রতিবেদক : একই দিনে সারা বিশ্বে ঈদ পালন ধর্ম ও বিজ্ঞানবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম-এর খতিব মুফতি আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, নিজ অঞ্চলে চাঁদ দেখা প্রমাণিত হওয়ার পরও ঈদ পালনের জন্য অন্য অঞ্চলের চাঁদের অপেক্ষা করা সর্বসম্মতিক্রমে শরীয়ত পরিপন্থী। পাশাপাশি তিনি বিশ্বব্যাপী একই দিনে রোজা ও ঈদ পালনের মতবাদকে জ্যোতির্বিজ্ঞানবিরোধী বলেও আখ্যা দেন।
শনিবার (০৯ মে) সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “রোজা ও ঈদ বিশ্বব্যাপী একই দিনে পালনের দাবির ভ্রান্তি নিরসন ও শরয়ী বিশ্লেষণ” শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, গবেষক ও ইসলামি চিন্তাবিদরা অংশ নেন।
মুফতি আব্দুল মালেক বলেন, ইসলামী শরীয়তে চাঁদ দেখার বিষয়টি স্থানভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং প্রত্যেক অঞ্চলের মানুষকে নিজ নিজ অঞ্চলে চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই রোজা ও ঈদ পালন করতে হবে। তিনি বলেন, শরীয়তের সুস্পষ্ট বিধান উপেক্ষা করে বিশ্বব্যাপী একদিনে ঈদ পালনের দাবি বাস্তবতা, বিজ্ঞান ও ফিকহ—তিনটির সঙ্গেই সাংঘর্ষিক।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, চাঁদ পর্যবেক্ষণ পরিষদ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মুফতি ইসমাইল সিরাজী, শায়খ আহমাদুল্লাহ, তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল বাশার মো. সাইফুল ইসলাম, জমঈয়তে আহলে হাদিসের সভাপতি ড. অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফারুক, ছারছীনা দারুস সুন্নাত কামিল মাদরাসার প্রধান মুহাদ্দিস মাওলানা সিরাজুম মুনির, ফুরফুরা মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. নোমান, লালবাগ মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, পটিয়া মাদ্রাসার প্রধান মুফতি শামসুদ্দিন জিয়া, জামিয়া কোরআনিয়ার শূরা সদস্য মাওলানা জুবায়ের আহমদ এবং মাওলানা আব্দুল গাফফার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া মুসলিমদের অবশ্য কর্তব্য। তারা বলেন, চাঁদ দেখার বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে জাতীয় ঐক্য ও শরয়ী বিধান অনুসরণের মাধ্যমে রোজা ও ঈদ পালন করা উচিত।
জাতীয় এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম মুফতি মাহমুদুল হাসান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা জুবায়ের বিন আব্দুল কুদ্দুস। এ সময় মুফতি আব্দুল মালেক ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ প্রবন্ধ উপস্থাপনের মাধ্যমে বিষয়টির বিস্তারিত শরয়ী বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
এছাড়া এলইডি স্ক্রিনে তথ্যচিত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে বিষয়টির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-এর সাবেক অধ্যাপক ড. এস এম লুৎফুল কবির। সেমিনারের শেষপর্যায়ে জাতির উদ্দেশ্যে দশ দফা ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।




