ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশএকরাতে চার বাড়িতে ডাকাতি, আতঙ্কে রাত জেগে চলছে গ্রাম পাহারা

একরাতে চার বাড়িতে ডাকাতি, আতঙ্কে রাত জেগে চলছে গ্রাম পাহারা

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলের মানুষ ডাকাত আতঙ্কে রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন। গত ১৮ জুলাই উপজেলার কালিদাসখালী চর এলাকায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক রাতে চার বাড়িতে ডাকাতির চারদিন পর থেকে গ্রামবাসী এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

এ জন্য প্রতি রাতে নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ১০০ জন মানুষ নির্ঘুম রাত কাটিয়ে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন। তাদের দাবি, নদীর পানি না কমা পর্যন্ত চরাঞ্চলে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হোক।

চরাঞ্চলের লোকজন জানান, চলতি মাসের ১৮ জুলাই শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে তিনটার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে একরাতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চার বাড়িতে ডাকাতি শেষে ডাকাতরা প্রায় দশ লাখ টাকার মালামাল লুট করে ট্রলারযোগে নদী পথে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার চারদিন আগে ওই এলাকার দুটি বাজারে পাঁচটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছিল।

ভুক্তভোগীরা জানান, ২০ থেকে ২৫ জনের মুখোশ পরা অস্ত্রধারী ডাকাতদল প্রথমে গ্রামের লতিফ মোল্লার বাড়িতে ঢুকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা, স্বণের একটি আংটি, এক জোড়া কানের দুল, স্বর্ণের একটি চেইন এবং দুটি মোবাইল লুট করে নিয়ে যায়।

এরপর তারা ইউনুস ব্যাপারীর বাড়ি থেকে নগদ ৮ হাজার টাকা, স্বর্ণের একটি চেইন, রুপার নুপুর ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এর আগে ইদ্রিস ব্যাপারীর বাড়ি থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, একটি স্বর্ণের চেইন, দুটি রুপার বালা, একটি জোড়া নুপুর এবং তিনটি মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।

সর্বশেষ ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে হানা দিয়ে নগদ পাঁচ লাখ টাকা, দুই ভরির দুটি স্বর্ণের চেইন, চার আনি ওজনের দুটি স্বর্ণের আংটি, এক ভরির একটি কানের দুল ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে নেয়।

এরপর ডাকাতদল বাড়িগুলোর আসবাবপত্র তছনছ করে নদীপথে ইঞ্জিনচালিত টলার যোগে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী লতিফ মোল্লা বলেন, ডাকাতরা দ্রতগামী ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে এসেছিল। পাশাপাশি চার বাড়ি একে একে লুট করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে গেছে। চরের মানুষের একেকটা পরিবার একেকটা উঁচু ভিটায় বসবাস করে। অত্র এলাকায় কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে মসজিদের মাইকে মানুষ জড়ো করা হয়, কিন্তু গভীর রাত হওয়ায় সেটি সম্ভব হয়নি।

চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আলম বলেন, গত একমাসে পুরো এলাকায় অন্তত ১০টি চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে মানুষ চরম আতঙ্কে আছে।

তিনি জানান, গত ১৫ জুলাই রাতে পদ্মার চরাঞ্চলের পলাশী ফতেপুর ও নতুন বাজারে একই রাতে পাঁচটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল চুরি গেছে।

কিন্তু পুলিশ এখন পর্যন্ত জড়িতদের আটক করতে পারেনি। নিরুপায় হয়ে চরাঞ্চলের মানুষ এখন প্রতি রাতে একশজনের একটি দল নদীকুল এলাকা রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন। তিনি চরাঞ্চল এলাকায় নদীর পানি না কমা পর্যন্ত পুলিশ ক্যাম্পের দাবি জানিয়েছেন।

চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমরা নানাভাবে অবগত হয়েছি-কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, নাটোরের লালপুর ও রাজশাহীর বাঘা এই তিন থানা এলাকার একটি সংঘ্যবদ্ধ ডাকাত দল একত্রিত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় ডাকাত দেওয়াসহ মানুষকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে।

নিরুপায় হয়ে চরাঞ্চলের মানুষ সর্বসম্মতিক্রমে গ্রাম পাহারার ব্যবস্থা করেছেন। বর্তমানে ডাকাত আতঙ্কে গ্রামের মেয়েরা স্বর্ণের কোনো জিনিষ ব্যবহার করছেন না।

বাঘা থানার ওসি আ.ফ.ম আছাদুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি বাঘার দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে ডাকাতির খবর পেয়ে আমি ও সার্কেল এসপি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে চুরির ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular