অর্থনীতি ডেস্ক: একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গুরুতর অসুস্থ গ্রাহকদের জমা অর্থ ফেরতের বিষয়ে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, ক্যান্সার, কিডনি ডায়ালাইসিসসহ জীবনঘনিষ্ঠ রোগে আক্রান্ত আমানতকারীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ ছাড় দেওয়া হচ্ছে এবং অন্যান্য গুরুতর রোগের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংখ্যা বর্তমানে ৪৪টি। আর্থিক খাতের দুর্বলতা কাটাতে একীভূত করা পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর আওতায় একটি বিশেষ স্কিম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অধীনে প্রাথমিকভাবে প্রত্যেক অপ্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, অবশিষ্ট আমানত পর্যায়ক্রমে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব গ্রাহক গুরুতর অসুস্থতার কারণে জরুরি চিকিৎসা ব্যয়ের মুখোমুখি, তাদের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা আনতে সরকার শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক—একীভূত করে একটি সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক গঠন করেছে। তবে এসব ব্যাংকের অনেক গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে তাদের আমানত উত্তোলনে জটিলতার মুখে পড়েছেন।
এ প্রেক্ষাপটে সরকারের এই উদ্যোগকে ভুক্তভোগী আমানতকারীদের জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে সব আমানত ফেরত নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে এবং আর্থিক খাতে আস্থা পুনরুদ্ধারই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।




