পরিবেশ ডেস্ক: জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ‘এল নিনো’-র প্রভাবে বিশ্ব এক ‘চরম আবহাওয়ার বিপদজনক অঞ্চলে’ প্রবেশ করেছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই এল নিনো গত ৭০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে এবং ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট এই প্রাকৃতিক উষ্ণায়ন বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরণ বদলে দিচ্ছে। কোথাও তীব্র খরা ও দাবানল, আবার কোথাও রেকর্ড বৃষ্টিপাত, টাইফুন ও বন্যা সৃষ্টি করছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস একে ‘সুপারসাইজড’ এল নিনো হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পানামা খালে পানি কমায় জাহাজ চলাচল ১০ শতাংশের বেশি কমানো হচ্ছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলবে।
ইন্দোনেশিয়ার কালিমান্তানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরেরও বেশি এলাকা দাবানলে পুড়ছে, যেখানে কৃত্রিম বৃষ্টি (ক্লাউড-সিডিং) ঘটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় টাইফুনের প্রাবল্য বাড়ছে।
চীনে এ বছর সাতটি টাইফুন আঘাত হানার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আগস্টে টাইফুন ডলফিনের কারণে ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ অংশে ভারি বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পেরু ও ইকুয়েডরের মতো দক্ষিণ আমেরিকান দেশগুলোতে পাহাড়ধস ও ফ্ল্যাশ ফ্লাডের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের তলদেশের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। দেশের দক্ষিণাংশে তীব্র সামুদ্রিক দাবদাহের কারণে মাছ ও পেঙ্গুইনের মৃত্যু এবং জেলিফিশ ও ক্ষতিকর শৈবালের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি কমাতে ডব্লিউএমও এবং বিভিন্ন বিশ্বসংস্থা আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার করেছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কারিগরি সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র পেরু উপকূলে বিশেষ জাহাজ মোতায়েন করেছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দুর্বল অবকাঠামো ও অপরিকল্পিত আবাসন দুর্যোগের ক্ষতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে প্রতিটি দেশকে দ্রুত পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সূত্র: বিবিসি



