ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
HomeUncategorizedবৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে তৎপর বাংলাদেশ ব্যাংক

বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে তৎপর বাংলাদেশ ব্যাংক

নিউজ ডেস্ক:  এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১.৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ কমে ৩৪.৮৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে (আগের দিন বুধবার যা ছিল ৩৬.৩৮ বিলিয়ন ডলার)। এছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ (BPM6) ম্যানুয়াল অনুযায়ী হিসাব করলে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে প্রায় ২৯.৯৮ বা ২৯.৯৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আকু হলো তেহরান ভিত্তিক একটি আঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি সংস্থা, যার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ ৯টি দেশ নিজেদের মধ্যকার আমদানি-রপ্তানি বিল পরিশোধ করে।
তেহরান ভিত্তিক সংস্থা এসিইউ (আকু) ভারত, বাংলাদেশ, ভুটান, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা—এই নয়টি সদস্য দেশের মধ্যে লেনদেন নিষ্পত্তিতে সহায়তা করে।
বিস্তারিত তথ্য:
  • আকুর বিলের পরিমাণ: ১.৬৪ বিলিয়ন ডলার

  • পূর্বের রিজার্ভ: ৩৬.৩৮ বিলিয়ন ডলার (গ্রস)

  • বর্তমান রিজার্ভ: ৩৪.৮৫ বিলিয়ন ডলার (গ্রস)

  • বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ: প্রায় ২৯.৯৮ – ২৯.৯৯ বিলিয়ন ডলার

  • কারণ: প্রতি দুই মাস অন্তর আকুর আমদানি বিল পরিশোধ করতে হয়। এর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার বিক্রি করছে (যেমন ৪ নভেম্বর ১০ কোটি ডলার বিক্রি করা হয়েছে), যার কারণে রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

এসিইউ প্রক্রিয়ার আওতায় বাংলাদেশ প্রতি দুই মাস অন্তর আমদানি বিল পরিশোধ করে থাকে, যার ফলে প্রতিটি অর্থপ্রদানের পর রিজার্ভ সাময়িকভাবে হ্রাস পায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘ব্যালেন্স অফ পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল’-এর ষষ্ঠ সংস্করণের মানদণ্ড অনুযায়ী, এসিইউ-এর পাওনা পরিশোধের পর আজ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯.৯৮ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের দিন ছিল ৩১.৫১ বিলিয়ন ডলার।

এসিইউ-এর মাধ্যমে আমদানি বিল পরিশোধের পাশাপাশি, বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে বাজারে বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করছে। এ কারণেই রিজার্ভ ক্রমাগত কমছে।

গত ৪ নভেম্বর, জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মুদ্রা বাজার স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে নিজেদের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি (১০০ মিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তিন বছর ধরে তাদের রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করেছিল। এর ফলে ২০২১ সালের আগস্ট মাসে ৪৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি থাকা রিজার্ভ কমে ২৫.৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল।

২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আহসান এইচ মনসুর গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আর কোনো ডলার বিক্রি করা হবে না। বর্তমান গভর্নর এখনো সেই অবস্থানেই অটল রয়েছেন। এর ফলে রিজার্ভ বৃদ্ধি পায়; ২৯ জুন তা ৩৭ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে এবং ১ সেপ্টেম্বর ৩৭.৪১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular