নাজমুল হোসেন, বিশেষ সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করা শিশু শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে, কুকুরে কামড়ের পর প্রয়োজনীয় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন না থাকায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও চিকিৎসা ব্যয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খোলা স্থানে দলবদ্ধভাবে ঘোরাফেরা করছে বেওয়ারিশ কুকুর। আট থেকে ১০টি কুকুর একসঙ্গে চলাচল করে সুযোগ পেলেই মানুষের বাড়িতে ঢুকে হাঁস-মুরগি, ছাগলের বাচ্চা ধরে নিয়ে যায়। বাধা দিলে উল্টো আক্রমণ করে।
উপজেলার হাজিরহাট এলাকার ব্যবসায়ী আবদুর রহমান তালুকদার বলেন, “বাজারের পাশে হাজিরহাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তোয়াহা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের এই কুকুরের ভয়ে আতঙ্কে চলাচল করতে হয়।”
ভোরে নামাজে যাওয়া মুসল্লিরাও কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন বলে জানান স্থানীয়রা। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা ভয়ে একা স্কুলে যেতে সাহস পায় না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুর, বিড়াল বা অন্য প্রাণীর কামড়ে প্রয়োজনীয় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে আক্রান্তদের জেলা সদর বা পাশের নোয়াখালীতে গিয়ে উচ্চমূল্যে ভ্যাকসিন নিতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারি, কিন্তু ভ্যাকসিন না থাকায় রোগীদের বাইরে পাঠাতে হচ্ছে।”
কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, “বর্তমানে আমাদের কাছে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই। উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যক্রম আছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।”
কেবল মানুষ নয়, গবাদিপশুও কুকুরের আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন বহু ছাগল, গরু ও হাঁস-মুরগি কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক সময় চিকিৎসার অভাবে আক্রান্ত পশু জবাই করে ফেলার ঘটনাও ঘটছে।
কমলনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইসমাইল হোসেন বলেন, “প্রতিদিন তিন থেকে চারটি করে কুকুরে কামড়ানো পশু আনা হয়, যার বেশিরভাগই ছাগল। সরকারি ভ্যাকসিন না থাকায় আমরা শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারছি।”
চিকিৎসকদের মতে, কুকুরের কামড়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো জলাতঙ্ক, যা সময়মতো চিকিৎসা না পেলে প্রাণঘাতী হতে পারে। এজন্য দ্রুত ভ্যাকসিন দেওয়া জরুরি। তবে বর্তমানে ভ্যাকসিন সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে সরকারি বা বেসরকারি কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। ফলে দিন দিন এর উপদ্রব বাড়ছে এবং জননিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য বড় ঝুঁকির মুখে পড়ছে।



