নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর কাকরাইল মারকাজ মসজিদ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন তাবলিগ মাওলানা সাদপন্থিরা। মসজিদে প্রবেশ করে বড় জামাত নিয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন তারা।
তাবলীগ জামাতের মাওলানা সাদ ও জুবায়েরপন্থীদের মধ্যে সম্প্রতি নতুন করে উত্তেজনা দেখা্ দেয়। এ অবস্থায় সাদপন্থীরা শুক্রবার সকালে কাকরাইলের মারকাজ মসজিদে প্রবেশ করে সেখানে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন আগেই। তাই এদিন ভোর থেকে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দুপুরে মসজিদের সামনের ও আশপাশের সড়কে সাদপন্থিদের বিপুল উপস্থিতি দেখা যায়। সেখানে জামার নামাজ আদায় করেন তারা। নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে নামাজ শুরু হয়ে সাড়ে ১২টায় শেষ হয়।
কাকরাইল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই তাবলিগ জামাতের দিল্লির নিজামুদ্দীনের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা মসজিদ এলাকায় আসতে শুরু করেন। আস্তে আস্তে তাদের জমায়েত অনেক বড় হয়। দুপুর ১২টার আগে হাজার হাজার লোকে পরিপূর্ণ হয়ে যায় কাকরাইল এলাকা।
জুমার জামাত প্রধান সড়ক পার হয়ে প্রধান বিচারপতির বাসভবন ছাড়িয়ে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত পৌঁছে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে কাকরাইল মসজিদের পাশে, রমনা ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে যাওয়ার পথটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জানা যায়, ২০১৭ সালের নভেম্বরে দুপক্ষের দ্বন্দ্ব প্রথম প্রকাশ্য রূপ নেয়। সেই সময় কাকরাইলে দুদল কর্মীর মধ্যে হাতাহাতি হয়। শুরু হয় তীব্র উত্তেজনা। এর প্রেক্ষিতে গত ৭ বছর ধরে প্রশাসনের সিদ্ধান্তে কাকরাইল মসজিদের এক অংশে জুবায়েরপন্থিরা ৪ সপ্তাহ ও সাদপন্থিরা দুই সপ্তাহ করে পর্যায়ক্রমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তবে মসজিদের অপর অংশ জুবায়েরপন্থিরা ১২ মাসই নিজেদের দখলে রাখেন। সাদপন্থিদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে হেফাজত সমর্থিত জুবায়েরপন্থিরা বেশি সুবিধা ভোগ করে আসছেন। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার মাঠ নিয়েও দুই পক্ষের বিরোধ দিনে দিনে তীব্র হচ্ছে।
গত ৪ নভেম্বর সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমা দুই দফায় আয়োজিত হবে। প্রথম দফার ইজতেমা শুরু হবে ৩১ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় দফায় শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। তবে ৫ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক সমাবেশে জুবায়ের অনুসারীরা বলেন, দেশে ইজতেমা একবারই হবে, দু’বার নয়। টঙ্গীতে ইজতেমার মাঠ ও ঢাকার কাকরাইল মসজিদে দিল্লির মাওলানা সাদের অনুসারীদের আর ঢুকতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে ৯ নভেম্বর এক ভিডিও বার্তায় সাদপন্থি ইমাম মুফতি আজিমুদ্দিন আগামী শুক্রবার কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের কাকরাইল মসজিদে না আসার আহ্বান জানান। এরপর গত মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জুবায়েরপন্থিরা।



