ঢাকা  রবিবার, ১১ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ২৫শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিখেলাপির চাপে বন্ধ হচ্ছে নন ব্যাংকিং ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

খেলাপির চাপে বন্ধ হচ্ছে নন ব্যাংকিং ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

নিউজ ডেস্ক : দুর্বল ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হলেও খেলাপির চাপে বন্ধ হতে যাচ্ছে ৯ নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই)। ব্যাংকের মতোই অবসায়ন প্রক্রিয়া অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানে জমানো টাকা ফেরত দেয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কোনো তহবিল গঠন করে প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখা যায় কি-না; তা আবারও ভেবে দেখার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।

টিউশনির টাকা, বাবার রেখে যাওয়া অর্থ, মা ও ভাইয়ের সঞ্চয়; লাভের আশায় সব মিলিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকা আভিবা ফাইন্যান্সে বিনিয়োগ করেন গাজীপুরের বাসিন্দা সৈকত দাস। তিনি জানান, এই টাকা ছাড়া অন্য কোথাও টাকা-পয়সা নেই। তবে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের ঘোষণা আসায় নিজের জমানো টাকা তুলতে গিয়েও বারবার ফিরে আসতে হচ্ছে খালি হাতে। টাকা ফেরত না পেলে আত্মহত্যা করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

শুধু সৈকত নয় এমন বহু মানুষ বিপাকে পড়েছেন খেলাপি ঋণ, জালিয়াতি ও দুর্নীতির কারণে বন্ধ হতে যাওয়া ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানত রেখে। তারা বলছেন, যারা প্রভাবশালী, তাদের টাকা ঠিকই ফেরত দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ আমানতকারীদের ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে।

এ অবস্থায় আর্থিকখাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ৯টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য, গত বছর ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক খাতের ৩৫টি প্রতিষ্ঠানে যে ২৫ হাজার ৮৯ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ ছিল; তার ৫২ শতাংশই ওই ৯টি প্রতিষ্ঠানের।

এমন কঠোর সিদ্ধান্তেও আমানতকারীদের কোনো ক্ষতি হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের অবস্থা এতটাই নাজুক যে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সম্ভাবনাই নেই-সেগুলোই অবসায়নের আওতায় আসবে। অবসায়ন প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়া হবে। পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণে কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয় ছিল, কিন্তু অবসায়নে ছাঁটাইয়ের প্রশ্নই নেই-কারণ প্রতিষ্ঠানই আর থাকবে না।

প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে খেলাপি ঋণের কী হবে আর কিভাবেই বা ফেরত দেয়া হবে আমানতকারীদের অর্থ? এমন প্রশ্ন তুলে তারল্য সহায়তা দিয়ে ব্যাংকগুলোকে যেভাবে আবার শক্তিশালী করা হচ্ছে তখন দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও শর্ত সাপেক্ষে কোনো সুযোগ দেয়া যায় কিনা তা ভেবে দেখার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।

বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেষবারের মতো একটি মূলধন সহায়তা দেয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিতে হবে-এই সময়ের মধ্যে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কিনা। সুযোগ দেয়ার পরও যদি তারা সক্ষম না হয়, তখন পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।

তুলনামূলক ভালো হিসেবে চিহ্নিত ১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৪৯ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি রয়েছে তিন হাজার ৬২৭ কোটি টাকা। গত বছর এসব প্রতিষ্ঠান মুনাফা করেছে ১ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular