ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখোলা কলামগণতান্ত্রিক পরীক্ষা এখন অনিবার্য

গণতান্ত্রিক পরীক্ষা এখন অনিবার্য

নিউজ ডেস্ক :    আওয়ামী লীগকে কার্যত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ করে চলতি নির্বাচনের সামনে দেশে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে; দলটি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে গণবয়কট ডাক দিয়েছে — এক ধরণের গণতান্ত্রিক পরীক্ষা এখন অনিবার্য হয়ে উঠেছে !

মেয়াদকালীন বক্তব্য ও সরকারি নোটিফিকেশন অনুযায়ী, এই বিরোধীদল ও এর অনুকরণকারীদল গুলোকে সরকারিভাবে অবৈধ বলা হয় এবং গত ১০ মে (২০২৫) থেকে দলের কার্যক্রমে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে—অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন অগত্যা এ পদক্ষেপের কথা জানায় ন্যাশনাল সিকিউরিটি ও আইনি কারণ তুলে ধরে।

এইরকম পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি)ও গত জুলাইয়ে ঐতিহ্যবাহী দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে এবং কার্যত তার প্রতীক “নৌকা” ওয়েবসাইট থেকে সরানো হয়েছিল, যা দলীয় সমর্থকদের মধ্যে সংক্রান্ত শঙ্কা আরও বাড়িয়েছে। ইসি-র এই পদক্ষেপকে কিছু বিশ্লেষক নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণের প্রশ্নে একটি রেডফ্ল্যাগ হিসেবে দেখছেন।

ভারতে নির্বাসিত অবস্থায় থাকা শেখ হাসিনা রোববার (২৯ অক্টোবর) রিলিজ করা এক আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারে এই নিষেধাজ্ঞাকে “অন্যায়” এবং “দেশকে বিভক্ত করবে” বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং তিনি জানিয়েছেন—আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে বিরত রাখলে তাঁর সমর্থকরা ব্যাপক বয়কটে যাবে, ফলে ভোটের উৎসাহ ও বৈধতা ক্ষুণ্ন হবে। দলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও চলমান মামলা-নথি, বিশেষ করে ২০২৪ সালের প্রতিবাদের সময় বন্দুকচালনার জন্য দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষাপট (কিছু কেসে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি পর্যন্ত) নির্বাচনী পরিবেশ আরও জটিল করেছে; এই মামলাগুলো গুরুত্বপূর্নভাবে ভোটে অংশগ্রহণ যোগ্যতাকে প্রভাবিত করছে বলে মন্তব্য রয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন—যদি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পক্ষগুলোর অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত থাকে, তা হলে নির্বাচন শুধু প্রতীকিক হবে না, বরং গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব ও ভোটার আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে সহমত ও বিরোধ—দুটোই সমানভাবে ভোটের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রভাবিত করে এবং এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ভবিষ্যত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনিশ্চিত।

বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের সম্ভাব্য পদ্ধতি ও অংশগ্রহণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেন নাই।

তাই আগামী কয়েক মাস নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি, দলগুলোর অবস্থান ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক প্রকৃতপক্ষে নির্বাচনকে কতটা অবাধ ও সুষ্ঠু করে তুলতে পারে—এটাই মূল প্রশ্ন।

ঢাকানিউজ২৪/সাদী

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular