নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম স্থপতি ও গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেন গুরুতর অসুস্থ হয়ে গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চিকিৎসকরা জানান, তিনি শারীরিক দুর্বলতা এবং ফুসফুসজনিত জটিলতায় ভুগছেন।
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান দেশবাসীর কাছে তাঁর দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া কামনা করেছেন।
শারীরিক পরীক্ষার পর তার নিউমোনিয়া ধরা পড়ায় আপাতত হাসপাতালের উচ্চ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ড. কামালের নিউমোনিয়া আক্রান্ত ফুসফুসে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতিশীলতা পুনঃস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন এবং প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, তার শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষা শেষে বিশদ রিপোর্ট দুই-তিন দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে।
ড. কামাল হোসেন বাংলাদেশের রাজনীতির বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব। তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আইনমন্ত্রী ও পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেন। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি একজন প্রখ্যাত আইনজীবী ও সংবিধানবিদ হিসেবেও পরিচিত।
১৯৯২ সালে ড. কামাল হোসেন গণফোরাম নামের একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন এবং দীর্ঘদিন সেখানকার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরে এসে গণফোরামের ইমেরিটাস (সম্মানসূচক) সভাপতি হন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিরোধী জোট ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ গঠনে নেতৃত্ব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের গণতান্ত্রিক জোট বেঁধে নজর কেড়েছেন। তাঁর সংবিধানপ্রণয়ন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দীর্ঘ দিনের অবদান বাংলাদেশে সর্বজন স্বীকৃত।
ড. কামালের অসুস্থতা জানার পর রাজনৈতিক মহল থেকে উদ্বেগের স্বর ওঠে।
গণফোরাম থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মিজানুর রহমান জানান, জাতির উদ্দেশ্যে লেখা ওই বিজ্ঞপ্তিতে দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী জানান গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেনের দ্রুত আরোগ্য কামনায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন অংশে সাধারণ মানুষ এবং সহকর্মী নেতারা মিলিত হয়ে তাঁর আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা করছেন।
এমন পরিস্থিতিতে অসুস্থ ড. কামালের খবর দেশের রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও সংবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাই তাঁর দ্রুত আরোগ্যের জন্য কামনা করছেন।
চিকিৎসক দলের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে যে প্রয়োজনীয় যত্ন ও চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে সেকারণে দ্রুত সুস্থ হওয়ার আশা ব্যক্ত করা হচ্ছে। দেশের প্রায় সব শ্রেণী পেশার মানুষ তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া করছেন এবং সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত তার স্বাস্থ্যসেবার আপডেট দেওয়া হচ্ছে।
গণফোরামের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রবীণ এই রাজনৈতিক নেতা বর্তমানে তীব্র শারীরিক দুর্বলতা এবং ফুসফুসজনিত জটিলতায় ভুগছেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে, বুধবার যখন কামাল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দেন, তখন বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী নির্ধারিত ভিআইপি রুট দিয়ে তার গাড়ি প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয় কারণ তার নাম সরকারি অতিথি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
ফলস্বরূপ, কামালকে হুইলচেয়ারে করে ঘন ভিড়ের মধ্যে দিয়ে যথেষ্ট দূরত্ব ভ্রমণ করতে বাধ্য করা হয়েছিল, বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




