নিউজ ডেস্ক : দলিল নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও ডিজিটাল করতে নিবন্ধন (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান আপডেট করা হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগ বৃহস্পতিবার এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে; অধ্যাদেশটি সংসদ ভাঙার জরুরি ক্ষমতার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তৎক্ষণাৎ কার্যকর করা হয়।
সংশোধনীতে সময়সীমা বাড়ানো হয়—ধারা ১৭ক-ছ(উপধারা (২)) অনুযায়ী দলিল নিবন্ধনের নিয়মিত ৩০ দিনের বদলে ৬০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে; তদ্রূপ ধারা ২৬(খ)-এ সময়সীমা ৪ মাস থেকে ৬ মাস করায় দীর্ঘতোষণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে সময়সঙ্কটে পড়া জনগণ, ক্রেতা-বিক্রেতা ও আইনি বিষয় সংশ্লিষ্টরা একটু আরামে তাদের কাগজপত্র প্রস্তুত করতে পারবেন।
একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন: ধারা ৫২ক সংশোধনের মাধ্যমে নিবন্ধনের আওতায় ধারা সম্প্রসারিত করা হয়েছে—এখন বিক্রয়ের পাশাপাশি হিবা (মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের আওতায়) এবং দান (হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ আইনের অধীনে)-ও দলিল নিবন্ধনের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ হস্তান্তর-ধর্মী দান/হেবা কাগজও সরকারি রেকর্ডে স্বীকৃত হবে; ‘বিক্রেতা’ শব্দের সঙ্গে ‘অথবা দাতার’ শব্দ দুটি যোগ করা হয়েছে। এই পরিবর্তন উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি সংরক্ষণে স্পষ্টতা আনবে।
দলের অনিয়মরোধক প্রজ্ঞাপনও রয়েছে—ধারা ৬৮-এ নতুন উপধারা (৩) যোগ করে বলা হয়েছে: কোনো নিবন্ধন কর্মকর্তা যদি যথাযথ ফি, কর, সার্ভিস চার্জ বা শুল্ক আদায় না করে দলিল নিবন্ধন করেন, তবে তা অসদাচরণ গণ্য হবে এবং অনাদায়ি অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকেই আদায় করা যাবে। দায়-অালোক দেখে সরকারি কর্মীকে দায়বদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
অ্যাপিল ও আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিতে ধারা ৭২-তে উপধারা (১ক) সংযোজন করে রেজিস্টারকে ৪৫ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; ধারা ৭৩-এ নতুন উপধারা (৩) যোগ করে আবেদন দাখিলের ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে—এতে কাগজপত্র যাচাই ও শাসনগত স্বচ্ছতায় গতি আশা করা যায়।
সবচেয়ে যুগোপযোগী ধারা হলো ই-রেজিস্ট্রেশন চালুর বিধান: অধ্যাদেশে নতুন অংশ (দ্বাদশ(ক)) ও ধারা ৭৭(ক) যোগ করে বলা হয়েছে—সরকার অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে দলিল উপস্থাপন, গ্রহণ ও ডিজিটালি নিবন্ধন করা যাবে; এসবের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ম-বিধি গেজেটের মাধ্যমে প্রণীত হবে। পাশাপাশি ধারা ৮০ প্রতিস্থাপন করে নির্ধারণ করা হয়েছে—দলিল উপস্থাপনের সময়ই সব ফি, কর ও সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করতে হবে; আদায়ের পদ্ধতি ও চার্জ ব্যবহারের বিধি গেজেটে দেওয়া হবে।
এই পরিবর্তনের প্রভাব: ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন কাগজপত্র ব্যবস্থা দ্রুততর, ট্রান্সপারেন্ট ও ট্রেসযোগ্য করবে; একই সঙ্গে অনলাইনে জমা, পেমেন্ট ও রেজিস্ট্রেশন সুবিধা দিয়ে সময় ও ভ্রমণভোগ কমবে। তবে বাস্তবায়নের সময় সফটওয়্যার অনুমোদন, ডাটা নিরাপত্তা, রেগুলেটরি ট্রেনিং ও গ্রামীন অঞ্চলে ডিজিটাল স্কিল সুনিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে।
পরামর্শ : নতুন নিয়ম অনুযায়ী দলিল করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রার অফিস বা নোটারি-অফিসে সময়সীমা ও ফি নিশ্চিত করুন; হেবা/দান সংক্রান্ত দলিলে উভয় পক্ষের আইনি পরামর্শ নিন; ই-রেজিস্ট্রেশনের জন্য গেজেট প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত অফিসিয়াল সাইট ও বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত খোঁজ রাখুন।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




