ঢাকা  শনিবার, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeশিরোনামগোয়েন্দা ব্যর্থতাই গোপালগঞ্জের ঘটনার জন্য দায়ী

গোয়েন্দা ব্যর্থতাই গোপালগঞ্জের ঘটনার জন্য দায়ী

নিউজ ডেস্ক: জুলাই চেতনা নস্যাৎ করে পতিত প্রধানমন্ত্রীকে পুনর্বাসন করার চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আশরাফুল হুদা। তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর থাকলে গোপালগঞ্জে এতো বড় ঘটনা ঘটতো না। গোয়েন্দা ব্যর্থতাই গোপালগঞ্জের ঘটনার জন্য দায়ী। এদিকে যাতে নির্বাচন পিছিয়ে যায়। গোপালগঞ্জের ঘটনা তারই উদাহরণ।

শুক্রবার রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘মব সন্ত্রাস প্রতিরোধে করণীয়’ ছায়া সংসদে এসব কথা বলেন তিনি। ছায়া সংসদের বিষয় ছিল ‘বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা মব সন্ত্রাস বৃদ্ধির প্রধান কারণ’।

সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা বলেন, পুলিশের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ না করে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে দিলে ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব ছিল। সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। শহরের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশের তৎপরতা দুঃখজনক। এখানে পুলিশের কোনো গাফিলতি থাকলে তারও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। মব ভায়োলেন্স শুধু ভুক্তভোগীরা করে না। নৈরাজ্য সৃষ্টি ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য কেউ কেউ টার্গেট করে বিএনপির ওপর দোষ চাপিয়ে দেওয়ার জন্য এ ধরনের মব ভায়োলেন্স করছে।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, মব সন্ত্রাস জাতীয় জীবনে এক নতুন আপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এটি সমাজের ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। এই মব কালচার গণতন্ত্রের অভিযাত্রাকে কলঙ্কিত করছে। অফিস-আদালত, রাস্তা-ঘাট, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, ট্রেন স্টেশন-সর্বত্র ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। যার কারণে জনজীবনে আতঙ্ক বাড়ছে এবং দেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা হুমকির মুখে পড়ছে।

আজকের মব নিয়ে যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা, তা অতীতের ধারাবাহিকতা বললে ভুল হবে না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ১/১১-এর লগি বৈঠার নির্মম ঘটনাকে মব সন্ত্রাসের সূচনা হয়। সেই ঘটনার এখনও বিচার হয়নি। আজকের পরিস্থিতিতে মব জাস্টিসের নামে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। বিদ্যমান পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে সংঘটিত সব মব সন্ত্রাসের যেমন বিরোধিতা করেছি, তেমনি ‘জুলাই বিপ্লব’-এর পর ঘটে যাওয়া চাঁদাবাজি, দখলবাজি, লুটপাটের উদ্দেশ্যে সংগঠিত নতুন মবগুলোকেও প্রত্যাখ্যান করি।

তিনি বলেন, চোর-ডাকাত, ছিনতাইকারীর পাশাপাশি মবের শিকার হচ্ছেন রাজনীতিবিদ, আমলা, আইনজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসক থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সর্বত্র ‘মব জাস্টিস’-এর নামে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। মাজার ভাঙা, বাউল গান বন্ধ করা, জাতীয় সংগীত নিয়ে প্রশ্ন তোলা-এসব কিছুই কাম্য নয়। মব সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বৃথা যাবে।

মব সন্ত্রাস প্রতিরোধে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি ৭ দফা সুপারিশ করেছে। সেগুলো হচ্ছে- রাজনৈতিক সদিচ্ছা, বিচার ব্যবস্থার জটিলতা দূর করে স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক কাঠামো গঠন, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়ে তুলে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গুজব ও ঘৃণার কনটেন্ট দমনে সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারী ও বিটিআরসির কার্যকর ভূমিকা, নির্বাচনী ইশতেহারে মব সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, সামাজিক-অর্থনৈতিক ভারসাম্য, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সুশিক্ষা এবং গণমাধ্যমকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা।

ছায়া সংসদে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক সাইদুর রহমান, সাংবাদিক আহমেদ সরওয়ার, সাংবাদিক এম এম বাদশাহ্ ও সাংবাদিক মনিরুজ্জামান মিশন।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular