ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধগৌরীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বিল উত্তোলনে টাকা দাবী

গৌরীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বিল উত্তোলনে টাকা দাবী

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:   ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট সেবার বিল উত্তোলনের নামে টাকা দাবীর অভিযোগ পওয়া গেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ টেলিওয়ের কমিউনিকেশন (ইডিসি) নামের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি (রাউটার বা ডিভাইস) স্থাপন করে নিয়মিত ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হলেও সেবা দেয়া হয়নি। এসব বিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট সংযোগের বিল পরিশোধের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর টাকা পাঠিয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়গুলোকে সেই বিল পাইয়ে দেওয়ার নামে একটি চক্র প্রত্যেক বিদ্যালয় থেকে ১ হাজার টাকা করে সংগ্রহ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, ইন্টারনেট বিল পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ও বিল পাস করানোর জন্য ট্রেজারি অফিসে টাকা দিতে হবে মর্মে পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাদের কাছে ১ হাজার করে টাকা চেয়েছেন।

এ বিষয়ে গৌরীপুর পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল আনোয়ার ফেরদৌস বলেন, আমি কোনদিনও এই বিষয়ে কারও কাছে কোন টাকা চাইনি, কোন মিটিংও করিনি। টিইও ম্যাডামের এখানে মিটিং হইছে। প্রধান শিক্ষকগণই আলোচনা করছে আর এইটা তো আমার কোন বিষয় না।
উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আনোয়ার রহমান জানান, ইন্টারনেট বিল ছাড় দেওয়া হয়েছে জুন মাসে। আমার অফিসের নাম করে কেউ টাকা নিচ্ছে কিনা আমার জানা নেই।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৭৪টি বিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ইন্টারনেট সেবা চুক্তি রয়েছে। তন্মধ্যে ৭৬টি বিদ্যালয়ে এডিএন টেলিকম ও ৯৮টি প্রতিষ্ঠানকে গ্রামীণ ফোন কোম্পানীর সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছিলো। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ের বিপরীতে প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে বিল পরিশোধ করতে হবে। গত বছরের জুলাই মাস থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত এক বছরের বিল আসছে। সেই বিল উত্তোলন করে স্থানীয় উপজেলা শিক্ষা অফিসের ব্যাংক হিসাব নম্বরে গচ্ছিত রাখা হয়েছে।

একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ অভিযোগ করে বলেন, ইন্টারনেট সংযোগের ক্ষেত্রে কেবল ডিভাইস প্রদান করেছেন কিন্তু কোন সেবা তারা পাননি। একদিনও ব্যবহার করা যায়নি।

গাভীশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন চঞ্চল জানান, গ্রামীণ ফোনের ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছিলো। রাউটার নিম্নমানের হলেও শুরুর দিকে ইন্টারনেট সেবা পেলেও ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে পুরোপুরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

এব্যাপারে এডিএন টেলিকম কোম্পানীর দায়িত্বরত কর্মকর্তা সোহাগ (ভালো নাম জানা যায়নি) জানান, গত ২০২৫ সালের শুরুর দিকে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি প্রত্যেক মাসে বিল প্রদান করবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন বিল আমরা পাইনি। তাই, এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিল পরিশোধ করলে পুণরায় সংযোগ প্রদান করা হবে।

অধিকতর অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেলিওয়ের কমিউনিকেশন কোম্পানী স্থানীয়ভাবে বিজয় আইটিকে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের জন্য পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব দেন।

এ বিষয়ে বিজয় আইটির স্থানীয় ম্যানেজার মো: আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা প্রথম পর্যায়ে ২০২৪ সালে পৌরসভার ২০টি বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সেবা চালু করি ও ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৫৪টি বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা হয়। ইন্টারনেট সংযোগের পর থেকে আমরা কোন বিল পাইনি। বিল না পাওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

এবিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা রুবায়াত জানান, গৌরীপুরে ১৭৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সেবা না পাওয়ার অভিযোগে কোম্পানীগুলোকে বিল দেওয়া হয়নি। শিক্ষকরা ব্যক্তিগতভাবে নেট ব্যবহার করে দৈনিক ডিজিটাল হাজিরা দিতে হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের প্রত্যয়নের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব নম্বরে অর্থ ছাড় করা হচ্ছে। বিল পাইয়ে দেওয়ার নামে একটি চক্রের ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি জানা নেই বলে তিনি জানান।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular