নিউজ ডেস্ক: ইয়েমেন উপকূলে গোলার আঘাতে ভারতের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজ সাগরে ডুবে গেছে। জাহাজে থাকা ১৪ আরোহীর সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ভারতের নৌপরিবহনমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোনোয়াল বলেন, ওই অঞ্চলে নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে ঠিক কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার পর থেকে কিছু তেলবাহী জাহাজ বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগর ব্যবহার করে আসছিল।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিশানা করা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে এই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধ ও নির্বিঘ্ন জাহাজ চলাচল এবং বাণিজ্য যত দ্রুত সম্ভব পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি।
বাধ্য হয়ে সৌদি আরব থেকে তেল নিয়ে আসা কিছু জাহাজ বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগর ব্যবহার করতে শুরু করে। সৌদি আরবের ট্যাংকারগুলোর ওপর ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের উপর্যুপরি হামলা এ অঞ্চলের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় এ হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। তাদের দাবি, বিস্ফোরকবোঝাই একটি নৌযানের সাহায্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে হুতিদের পক্ষ থেকে এ ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। হুতিরা সৌদি আরবের লোহিত সাগরের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিল।
হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির ব্যাপারে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের ইতিবাচক আশাবাদের ফলেই তেলের বাজারে এই পতন।
সামরিক অভিযান বন্ধ, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করে। কিন্তু এ চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র তিন সপ্তাহ পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি শেষ বলে ঘোষণা দেন। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানের হামলা এবং দেশটিতে পাল্টা মার্কিন হামলায় চুক্তিটি ভেস্তে যায়।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা বেশ ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে মঙ্গল বা বুধবারের মধ্যেই একটি চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে। অবশ্য ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না ।




