জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের আগে সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর হতে মিছিলটি শুরু হয়ে নতুন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
এ সময়ে ‘জাকসুর সুসংস্কার করতে হবে করতে হবে, ফ্যাসিস্টের দোসরদের শাস্তি চাই দিতে হবে, জিয়ার সৈনিকেরা এক হও লড়াই করো, রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়, আমাদের দাবি আমাদের দাবি মানতে হবে মানতে হবে, ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
জাবি ছাত্রদলের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন স্বাধীন বলেন, বর্তমান প্রশাসনে গত ১৭ বছরে গড়ে ওঠা আওয়ামী আধিপত্য এখনও জারি রয়েছে। আবাসিক হলগুলোতেও জুলাইয়ের হামলাকারীরা ছাত্রলীগের দোসররা রয়েছে। আমরা প্রশাসনে থাকা দোসরদের পদত্যাগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বিচার চাই। আমি মনে করি বিচারের আগে জাকসু হলে সন্ত্রাসীরা পার পেয়ে যাবে এবং আবারও অন্যায় শুরু করবে। এর পাশাপাশি যৌক্তিক সংস্কারের মাধ্যমে জাকসু নির্বাচন আয়োজন হউক।
ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ূন আবির হিরন বলেন, গত ১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উপর নৃশংস হামলায় জড়িত সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ এবং এই হামলায় মদদাতা শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাদের হাত রক্তে রঞ্জিত। আমরা চাইনা তাদের বিচার হওয়ার আগে কোন নির্বাচন হোক। তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে এরপরে নির্বাচন। আমাদের এ দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের এ অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে।
সদস্য সচিব অনিক বলেন, জাকসু নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে যারা বসে আছেন তারা আওয়ামী লীগের দোসর। তাদের বসিয়ে রেখে কোনভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। তাছাড়া জাকসুর যে গঠনতন্ত্র রয়েছে সেটা অনেক আগের। এই গঠনতন্ত্র সংস্কার করতে হবে এবং এই কাজগুলো সম্পন্ন করে নির্বাচন দিতে হবে অন্যথায় তা মেনে নেওয়া হবে না। আজকে আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।
আহবায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, জাকসুর গঠনতন্ত্র সংস্কার এবং ১৫ ই জুলাই শিক্ষার্থীদের উপর হামলায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আইন শৃঙ্খলার রক্ষাকারী বাহিনীর যারা জড়িত তাদের বিচার দাবিতে আমরা একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছিলাম। সেই দাবির আপডেট জানতে আজকে আমাদের এই বিক্ষোভ মিছিল এবং অবস্থান কর্মসূচি। আমাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।
প্রসঙ্গত, পুর্বের ঘোষণা অনুসারে আজ ১ লা ফেব্রুয়ারি জাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে প্রশাসনের।



