নিউজ ডেস্ক : মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট ২০২৫ ইং জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন।
প্রধান উপদেষ্টার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী প্রধান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি গণমাধ্যম কর্মীরা প্রত্যক্ষ করছিলেন অনুষ্ঠানটি।
জুলাই ঘোষণাপত্র-এ মোট ২৮টি দফা রাখা হয়েছে, যেগুলো মূলত চারটি ভাগে বিন্যস্ত:
১। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও স্বাধীনতার সংগ্রাম (দফা ১–৭): ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা-যুদ্ধের পূর্বসূচনা হিসেবে পাকিস্তানি শোষণ-বিরোধী সংগ্রামকে স্মরণ এবং মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত স্বাধীনতার গুরুত্ব। বাকশালস্থাপনার প্রতিবাদে ৭ নভেম্বর ১৯৭৫-এর সিপাহী-বিপ্লব এবং ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান–সংসদীয় গণতন্ত্রে পুনরাগমনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য।
২। স্বৈর-শাসন ও গণতন্ত্রের জল্পনা (দফা ৮–১৬): শেখ হাসিনা সরকারের ১৬ বছরের শাসনকালে দায়েরকৃত ‘গুম-খুন’, মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি ও একনায়কতন্ত্রের চিত্রায়ন। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটাধিকার হরণ এবং ছাত্র-শ্রমিক-কর্মী আন্দোলন দমন।
৩। জুলাই ২০২৪ গণঅভ্যুত্থান ও নাগরিক প্রত্যয় (দফা ১৭–২৪): ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, কখনো বেঁচে থাকা হাজার শহীদ ও আহতদের মর্যাদা বৃদ্ধি। ৫ আগস্ট ২০২৪-এ শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং দীর্ঘ আন্দোলনের ফলস্বরূপ সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীনে ৮ আগস্ট ২০২৪-এ অন্তর্বর্তী সরকার গঠন স্বীকৃতি। শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা ও তাঁদের পরিবারের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার।
৪। ভবিষ্যৎ ভাবনা ও নির্দেশনা (দফা ২৫–২৮): অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সাংবিধানিক সংস্কার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়। পরিবেশ, জলবায়ু সহনশীল, টেকসই উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ ও আগামী প্রজন্মের অধিকার রক্ষা। নির্দেশনা যে পরবর্তী নির্বাচনে সংশোধিত সংবিধানে এ ঘোষণাপত্র অন্তর্ভুক্ত হবে এবং গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
ঘোষণাপত্র পাঠের পরই রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া শোনা গেছে। কিছু দল অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে; যেমন হান্নান মাসুদের দল এটি বয়কট করেছে। সরকার ঘোষণাপত্র কার্য্যকর করতে সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন, সংবিধান সংস্কার ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেবে।
এই ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে গণতান্ত্রিক চেতনা, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রত্যয় পুনরুজ্জীবিত করেছে। ভবিষ্যতে এটির আলোকে আইনি ও সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন, অবাধ নির্বাচন ও উন্নয়নের সমন্বিত পথ সুগম করা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




