নিউজ ডেস্ক : ৫ আগস্ট ২০২৫, মঙ্গলবার, রাত ৮টা ২০ মিনিটে জাতির উদ্দেশে ভাষণ শুরু করেন প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি নিউজ ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন টেলিভিশন, অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস” উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে বিশেষ সমাবেশ। এই দিবস উদযাপন হয়েছে গত বছরের ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের স্মরণে, যার মূল অংশ ছিল ছাত্র-জনতাসহ বিভিন্ন স্তরের জনতার এক ঐতিহাসিক বিরোধী আন্দোলন। সমাবেশে মূলত ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সমাবেশে “জুলাই ঘোষণা” নামের গণতান্ত্রিক সংস্কারে’র রোডম্যাপ পাঠ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভাষণে তিনি ঘোষণা করেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে একটি চিঠি প্রেরণ করবেন, যাতে আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে ভোটগ্রহণ আয়োজন করা যায়—রমজানের আগেই নির্বাচনের ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হবে।
ড. ইউনূস পরিশেষে বলেন, “গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের অংশ হিসেবে আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করবো, যেন আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ সংসদের নির্বাচনের দিনক্ষণ এবং সময়সূচি ঘোষণা করা যায়।”
এর মাধ্যমে দেশকে দ্রুত স্বৈরাচার পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সময়োচিত নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বিএনপি দলটি মনোনীত তারিখকেই সমর্থন করেছে এবং আরও আগাম সময় চেয়েছিল। জামায়াত-এ-ইসলামী নির্বাচনী দলে অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে, তবে নিরপেক্ষ পরিমণ্ডল না পেলে বিকল্প পথ চিন্তা করবে বলে জানিয়েছে। অন্য দলের প্রতিক্রিয়ায় সমালোচনার পাশাপাশি একাংশ বলছে, নির্বাচন আয়োজনের আগে মৌলিক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল নিয়োগ জরুরি।
৫ আগস্ট ২০২৫-এ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতিবিধি আনতে যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনসহ সকল সংকট মোচনে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ



